একটি পিডিএফ বার্তায় ওলটপালট নিট ২০২৬, যেভাবে ফাঁস হলো দেশের বৃহত্তম পরীক্ষা কেলেঙ্কারি
মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজি ২০২৬ ঘিরে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। একটি সাধারণ হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ থেকে শুরু হওয়া এই ঘটনার জেরে শেষমেশ বাতিল হয়েছে কয়েক লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভাগ্য নির্ধারণী পরীক্ষা। রাজস্থানের সিকরের এক হোস্টেল মালিকের তৎপরতায় সামনে এসেছে এক বিশাল অসাধু চক্র, যার শিকড় ছড়িয়ে আছে মহারাষ্ট্র থেকে বিহার পর্যন্ত।
হোস্টেল মালিকের কৌতূহল ও সত্যের উন্মোচন
ঘটনার সূত্রপাত পরীক্ষার ঠিক আগের রাতে, ২ মে। সিকরের এক এমবিবিএস ছাত্র তার বাবার কাছে—যিনি পেশায় একজন হোস্টেল মালিক—একটি ‘গেস পেপার’ পাঠান। পরদিন সকালে সেই পেপারটি হোস্টেলের পরীক্ষার্থীদের দিতে গিয়েও ব্যর্থ হন তিনি। এরপর নিছক কৌতূহলবশত একজন রসায়ন শিক্ষককে সেটি যাচাই করতে দিলে ধরা পড়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আসল প্রশ্নপত্রের ২০৪টি প্রশ্নের মধ্যে ১৩৫টিই হুবহু মিলে যায় ওই পেপারটির সঙ্গে। অথচ সিকর পুলিশ শুরুতে এই গুরুতর অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে তদন্তের গতি রোধ করার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
দেশজুড়ে বিস্তৃত জালিয়াতির জাল ও সিবিআই তদন্ত
ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে রাজস্থান স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি)। তাদের অনুসন্ধানে দেখা যায়, জয়পুরের দুই ভাই এই প্রশ্ন ফাঁসের মূল কারিগর, যারা হরিয়ানা ও বিহারসহ একাধিক রাজ্যে মোটা অংকের বিনিময়ে প্রশ্নপত্র বিক্রি করেছে। মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের আসল কপি উদ্ধারের পর বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। প্রশ্নফাঁসের এই ভয়াবহতা বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় পুরো পরীক্ষা বাতিল করে তদন্তের দায়িত্ব সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিয়েছে।
এই কেলেঙ্কারির ফলে সাধারণ ও মেধাবী পরীক্ষার্থীরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। পরীক্ষা বাতিলের কারণে বড় আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক চাপের সৃষ্টি হলেও এনটিএ জানিয়েছে, পুনরায় পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের নতুন করে কোনো ফি বা রেজিস্ট্রেশন করতে হবে না। কঠোর নিরাপত্তার বেড়াজাল টপকে কীভাবে প্রশ্নপত্র বাইরে এলো, এখন সেটাই সিবিআই-এর প্রধান চ্যালেঞ্জ।