বৈষম্য নয় বরং সবার উন্নয়নই লক্ষ্য, বাংলায় জয়ের পর কড়া বার্তা বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের

পশ্চিমবঙ্গে পনেরো বছরের রাজনৈতিক অচলাবস্থা ভেঙে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর রাজ্যের পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ এবং সংখ্যালঘু অবস্থান নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। নির্বাচনে জয়ের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছিল যে, পদ্মশিবির সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে ফাটল ধরাতে পেরেছে কি না। সেই জল্পনা উসকে দিয়ে শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, সংখ্যালঘুরা বিজেপিকে সমর্থন করেছেন এবং নতুন সরকার ধর্ম নির্বিশেষে সকলের উন্নয়নের নীতিতেই পথ চলবে।

ধর্মীয় মেরুকরণ নয় বরং মৌলবাদ বিরোধী লড়াই

রাজ্য বিজেপি সভাপতির মতে, এই নির্বাচন ছিল মূলত হিন্দু বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষা এবং প্রগতিশীল মুসলিম সমাজের জন্য শেষ লড়াই। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বিজেপি কোনো বিশেষ ধর্মের বিরোধী নয়, বরং তাদের লড়াই সুনির্দিষ্টভাবে জেহাদি মানসিকতা এবং মৌলবাদের বিরুদ্ধে। মুসলিম ভোট ছাড়া বাংলায় ক্ষমতায় আসা সম্ভব নয়—তৃণমূল কংগ্রেসের তৈরি করা এই দীর্ঘকালীন ধারণা বা ‘ন্যারেটিভ’ ভেঙে দেওয়াই ছিল বিজেপির অন্যতম লক্ষ্য। শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, একদমই সংখ্যালঘু ভোট পাননি এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়, বরং শিক্ষিত ও মুক্তমনা মুসলিমদের একাংশ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন।

উন্নয়নে সমঅধিকার ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা

সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উগ্রতা বা বিভাজনকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বিজেপি সভাপতি। তিনি সতর্ক করে বলেন, হিন্দুত্বের নামে কেউ যদি উগ্রতা প্রদর্শন করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, তবে তা বরদাস্ত করা হবে না। মন্ত্রিসভায় সংখ্যালঘু মুখ না থাকা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ধর্মীয় পরিচয় উন্নয়নের পথে বাধা হতে পারে না। “সংখ্যালঘু না হয়েও সংখ্যালঘুদের উন্নয়ন করা সম্ভব”—এই দর্শনেই আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি মানুষের জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নবনির্বাচিত বিজেপি নেতৃত্ব। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বদলে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলাই এখন দলটির প্রধান চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *