বাংলার স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় বদল, আয়ুষ্মান ভারত পেতে মানতে হবে যে সব কঠিন শর্ত

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার। এতদিন রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের অধীনে ‘স্বাস্থ্য সাথী’ প্রকল্প চালু থাকলেও, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণা অনুযায়ী এখন থেকে কেন্দ্রের এই বিশেষ বিমা প্রকল্পের সুবিধাও পাবেন রাজ্যবাসী। তবে স্বাস্থ্য সাথীর মতো এই প্রকল্প সকলের জন্য অবারিত নয়; আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পেতে নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতার মাপকাঠি নির্ধারণ করা হয়েছে।

কারা পাবেন না এই প্রকল্পের সুবিধা

আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় আসতে হলে উপভোক্তাদের বেশ কিছু আর্থিক ও জীবনযাত্রার মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, যদি কোনো পরিবারের সদস্যের নামে দুই চাকা বা চার চাকার যান থাকে, তবে তারা এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হতে পারবেন না। যান্ত্রিক মাছ ধরার নৌকা থাকলেও মিলবে না এই সুবিধা। এছাড়া আয়ের ক্ষেত্রেও রয়েছে কঠোর সীমাবদ্ধতা; যাদের বার্ষিক আয় ২.৫ লক্ষ টাকার বেশি, তারা কেন্দ্রীয় এই স্বাস্থ্যবিমার তালিকা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাদ পড়বেন। মূলত প্রান্তিক ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের কাছে উন্নত চিকিৎসা পৌঁছে দিতেই এই শর্তগুলো আরোপ করা হয়েছে।

পুরানো প্রকল্পের ভবিষ্যৎ ও নতুন সুবিধা

রাজ্যে এর আগে চালু থাকা স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পে প্রায় প্রতিটি পরিবার অন্তর্ভুক্ত হতে পারত, যদি না কেউ অন্য কোনো সরকারি বিমা বা ইএসআই (ESI) সুবিধার আওতায় থাকতেন। নতুন সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, জনসেবামূলক কোনো প্রকল্প তারা বন্ধ করছে না, তবে আয়ুষ্মান ভারতের অন্তর্ভুক্তি স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। এই প্রকল্পের অধীনে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তিন দিন আগে থেকে শুরু করে ভর্তি থাকা অবস্থায় ওষুধ, আইসিইউ, ডায়গনস্টিক পরীক্ষা এবং ল্যাবরেটরি ফি-সহ যাবতীয় খরচ সরকার বহন করে। চিকিৎসা পরবর্তী ১৫ দিনের ওষুধের খরচও এই বিমার অন্তর্ভুক্ত, যা সাধারণ মানুষের চিকিৎসার বড় আর্থিক বোঝা লাঘব করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *