তিলজলার অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি আর নয় কোনো বেআইনি কারখানা!
কলকাতার তিলজলা থানা এলাকার টালিখোলা মসজিদের কাছে একটি পাঁচতলা বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ সৃষ্ট এই অগ্নিকাণ্ডে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় চারপাশ। জানা গেছে, আগুনের হাত থেকে বাঁচতে ভবনের একটি কারখানার কর্মীরা বাথরুমে আশ্রয় নিয়েছিলেন, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। দগ্ধ ও অসুস্থ অবস্থায় পাঁচজনকে উদ্ধার করে চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যু হয়।
তদন্তে পুলিশ ও প্রশাসনের কঠোর অবস্থান
এই ঘটনার পর রাতেই তিলজলা থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে কারখানার তিন কর্মীকে গ্রেফতার করলেও মালিক এখনো পলাতক। দমকলের চারটি ইঞ্জিনের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ঘিঞ্জি এলাকায় এই ধরনের বেআইনি কারখানার উপস্থিতি নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনায় একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, এই ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড আর বরদাস্ত করা হবে না এবং আগামীকাল সকাল ১১টার মধ্যে কমিটিকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বারবার অগ্নিকাণ্ড ও জননিরাপত্তা ঝুঁকি
শহরের ঘিঞ্জি এলাকায় একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা জননিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তিলজলার এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই উঠে এসেছে আক্রা-সন্তোষপুর এলাকার স্মৃতি, যেখানে বস্তির আগুনে সর্বস্ব হারিয়েছিলেন বহু মানুষ। শর্ট সার্কিট বা অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থার অভাবই মূলত এই ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিলজলার ঘটনাই যেন শেষ হয়, তা নিশ্চিত করতে আইনের কঠোর প্রয়োগ করা হবে এবং শহরের আনাচে-কানাচে চলা বেআইনি কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হবে।