পাঁচ বছর পর কেন হেফাজতে নেওয়ার আবেদন, কয়লা মামলায় ইডিকে তীব্র ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের

কয়লা পাচার মামলায় মূল অভিযুক্ত অনুপ মাজিকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বড়সড় ধাক্কা খেল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। মঙ্গলবার মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি বিক্রম নাথের ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে লক্ষ্য করে প্রশ্ন তোলে, পাঁচ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর কেন এখন অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিচ্ছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দীর্ঘ এই সময়ের মধ্যে মামলার বিচারপ্রক্রিয়া ও শুনানি শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল।

তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে আদালতের অসন্তোষ

আদালতে ইডির পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, এই কেলেঙ্কারিতে প্রায় ২৭০০ কোটি টাকার আর্থিক তছরুপ হয়েছে এবং দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করা হয়েছে। এই যুক্তিতে তারা অনুপ মাজির আগাম জামিন খারিজ করে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানায়। তবে বিচারপতিরা পাল্টা প্রশ্ন করেন, যখন অনুপ মাজি সিবিআই হেফাজতে ছিলেন, তখন কেন ইডি তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়নি। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর নতুন করে কেন এই আবেদন জানানো হচ্ছে, তা নিয়ে ইডির আইনজীবীদের কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করে আদালত।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও আইনি লড়াই

শুনানি চলাকালীন অনুপ মাজির আইনজীবী দাবি করেন, তাঁর মক্কেল তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করেছেন এবং ইতিমধ্যেই ২৩ বার হাজিরা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান ভোটের আবহে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই কেন্দ্রীয় সংস্থা নতুন করে অতিসক্রিয়তা দেখাচ্ছে। অন্যদিকে, আদালত মামলার গভীরতা বিচার করে সব পক্ষকে আগামী দু’মাসের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

এই মামলার বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কয়লা কেলেঙ্কারি মামলার বিচারে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট যথেষ্ট ক্ষুব্ধ। তদন্ত প্রক্রিয়ায় অহেতুক বিলম্ব এবং অভিযুক্তকে আটকে রাখার আবেদন নিয়ে আদালতের এই কঠোর অবস্থান কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। আগামী দুই মাস পর হলফনামা পেশের মাধ্যমে এই মামলার পরবর্তী মোড় নির্ধারিত হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *