বারো বছর আগের সেই বীভৎস স্মৃতি, পুলিশ অফিসারের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক শমীক ভট্টাচার্য

ভোট-পরবর্তী হিংসার আবহে ফের আলোচনায় বীরভূমের ইলামবাজারের সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর বিজেপি কর্মী শেখ রহিমের খুনের ঘটনা স্মরণ করে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বিশেষ করে সেই সময়ে কর্মরত ‘পাণ্ডে’ নামক এক পুলিশ অফিসারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁকে খুঁজে বের করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

ভয়াবহ সেই স্মৃতি ও শেখ রহিম হত্যাকাণ্ড

২০১৪ সালের ৭ জুন ইলামবাজার থানার ঘুড়িষা পঞ্চায়েতের কানুর গ্রামে বিজেপি কর্মী রহিম শেখকে কুপিয়ে খুন করা হয়। শমীক ভট্টাচার্যের দাবি অনুযায়ী, সেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল অত্যন্ত অমানবিক পরিস্থিতিতে। তিনি অভিযোগ করেন, রহিমের দুই মেয়েকে নগ্ন করে রাস্তায় হাঁটানো হয়েছিল এবং তাঁদের মা অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের চোখের সামনেই রহিমকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। শমীক ভট্টাচার্য জানান, সেই সময়ে সেখানে উপস্থিত এক পুলিশ অফিসার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। তাঁর রিপোর্টে বিষয়টিকে ‘ওভারপাওয়ার্ড’ বা নিয়ন্ত্রণহীন পরিস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন ওই অফিসার।

সংখ্যালঘু কর্মীদের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক প্রভাব

বিজেপি সভাপতির মতে, রাজ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বহু মানুষ বিজেপিকে সমর্থন করলেও নিরাপত্তার অভাবে তাঁরা সামনে আসতে পারেন না। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, নির্বাচনে প্রতিকূল ফল হলে দলীয় কর্মীদের প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। রহিমের ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, অতীতে বিজেপি করার অপরাধে সংখ্যালঘু কর্মীদের ওপর চরম অত্যাচার চালানো হয়েছে।

এই পুরোনো ঘটনা নতুন করে সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। শমীক ভট্টাচার্যের এই বক্তব্য মূলত বর্তমান ভোট-পরবর্তী হিংসার প্রেক্ষাপটে দলীয় কর্মীদের মনোবল বাড়ানো এবং তৎকালীন প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার যে অভিযোগ তিনি তুলেছেন, তা রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *