হিমন্ত ও শুভেন্দুর সংকেতে কি বড় কোনো রাজনৈতিক ঝড়ের পূর্বাভাস!
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো হিমন্ত বিশ্বশর্মার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী দুই প্রতিবেশী রাজ্যের সমীকরণ এক নতুন মোড় নিয়েছে। মঙ্গলবার দিসপুরে আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানে বাংলার নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি এবং সামাজিক মাধ্যমে দুই নেতার রহস্যময় বার্তা এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। হিমন্ত বিশ্বশর্মার ‘ওদের জন্য খারাপ সময় আসছে’ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে শুভেন্দুর রসিকতাপূর্ণ সম্মতি ভবিষ্যতে বাংলা ও অসমের অভিন্ন রাজনৈতিক কৌশলের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত নীতিতে অসম মডেলের ছোঁয়া
দুই নেতার এই খুনসুটির নেপথ্যে থাকা ‘ওদের’ পরিচয় নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী খোদ অসমের সীমান্ত সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশ রোধে গৃহীত কঠোর পদক্ষেপের প্রশংসা করে জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গও এখন থেকে ‘অসম মডেল’ অনুসরণ করবে। এতদিন বাংলার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) জন্য জমি বরাদ্দ নিয়ে পূর্বতন সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রের যে সংঘাত ছিল, তার অবসান ঘটিয়ে কঠোর নিরাপত্তার পথে হাঁটার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। এতে করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর জনবিন্যাস এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে হিমন্ত ও শুভেন্দু যে একই মেরুতে অবস্থান করছেন, তা স্পষ্ট।
এনআরসি এবং কড়া প্রশাসনের ইঙ্গিত
অসমে যেভাবে এনআরসি এবং অনুপ্রবেশকারী শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া চলেছে, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই একই প্রশাসনিক তৎপরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ‘তুষ্টিকরণের রাজনীতি’র অবসান ঘটিয়ে জাতীয়তাবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নের যে সংকল্প শুভেন্দু করেছেন, তার সরাসরি সমর্থন মিলেছে হিমন্তের বার্তায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই রাজ্যের এই সমন্বয় আগামী দিনে বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে হওয়া অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে বড় ধরনের প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে আসতে পারে। কার্যত হিমন্তের শপথ মঞ্চ থেকে দুই নেতার এই যৌথ হুঁশিয়ারি বিরোধী শিবিরের পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারীদের জন্য এক কড়া সতর্কবার্তা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।