বিধানসভার সিঁড়িতে নতজানু হয়ে প্রণাম, ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে বুধবার বিধানসভায় বিধায়ক হিসেবে শপথ নিলেন পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে শপথগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতার চেয়েও এদিন বিধানসভার প্রবেশপথে তাঁর ভক্তিপূর্ণ আচরণ রাজনৈতিক মহলে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিধানসভার সিঁড়িতে জুতো খুলে নতজানু হয়ে প্রণাম জানিয়ে তবেই ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথমবার সংসদ ভবনে প্রবেশের সময় যে ভঙ্গিতে প্রণাম করেছিলেন, শুভেন্দু অধিকারীর এই আচরণে সেই ছায়ারই প্রতিফলন দেখছেন বিশ্লেষকরা।

সংসদীয় ঐতিহ্যে নতুন আধ্যাত্মিক ছোঁয়া

এদিন বেলা সাড়ে ১০টা নাগাদ বিধানসভায় পৌঁছালে মুখ্যমন্ত্রীকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। এরপর বি আর আম্বেদকরের মূর্তিতে মাল্যদান সেরে তিনি বিধানসভার মূল ভবনের সিঁড়িতে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করেন। নিজের কক্ষে আয়োজিত বিশেষ পুজোয় অংশ নেওয়ার পর তিনি শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা থেকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসার এই যাত্রাপথে তাঁর এই বিনম্র ভঙ্গি জনমানসে এবং দলের কর্মীদের কাছে এক বিশেষ বার্তা পৌঁছে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

নন্দীগ্রাম ছেড়ে ভবানীপুরেই আস্থা

এবারের নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। তবে এদিন তিনি ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ায় আইনি প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট হয়ে গেল যে তিনি নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দিচ্ছেন। সংবিধান অনুযায়ী, একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি একাধিক আসন ধরে রাখতে পারেন না। শুভেন্দু অধিকারীর এই সিদ্ধান্তের ফলে নন্দীগ্রাম আসনটি এখন শূন্য হতে চলেছে, যেখানে আগামী দিনে উপনির্বাচন অবধারিত।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও রাজনৈতিক গুরুত্ব

মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপের ফলে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক সমীকরণ আবারও উত্তপ্ত হতে পারে। যদিও তিনি আগেই জানিয়েছেন, আসন ছাড়লেও নন্দীগ্রামের মানুষের সঙ্গে তাঁর আত্মিক যোগ বজায় থাকবে। অন্যদিকে, জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা দিতে এদিন বিজেপি বিধায়কদের কনভয়ের বদলে বাসে চড়ে বিধানসভায় আসা এক অভিনব সংযোজন। সামগ্রিকভাবে, শুভেন্দু অধিকারীর এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান এবং বিনম্র আচরণ রাজ্যে এক নতুন ঘরানার সংসদীয় সংস্কৃতির ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা আগামী দিনের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *