চিকিৎসার আড়ালে ছদ্মবেশেও শেষ রক্ষা হলো না, বাংলায় ধরা পড়লেন ১৫ লক্ষি মাও নেত্রী!
নদিয়ার শান্ত জনপদ চাকদহের কাশিমপুর গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হলো পুলিশের খাতায় দীর্ঘদিনের ‘ওয়ান্টেড’ মাওবাদী নেত্রী শ্রদ্ধা বিশ্বাস ওরফে বেলাকে। ঝাড়খণ্ডের সারান্ডা জঙ্গলে যৌথ বাহিনীর অভিযানের মুখে পড়ে অসুস্থ অবস্থায় বাংলায় চিকিৎসা নিতে এসে শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে ধরা পড়লেন ৫৫ বছর বয়সী এই নেত্রী। সিপিআই (মাওবাদী)-র আঞ্চলিক কমিটির এই গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের মাথার দাম ছিল ১৫ লক্ষ টাকা। গোয়েন্দাদের নজর এড়াতে তিনি বেলা সরকার, পঞ্চমী, দীপা সরকার, সন্ধ্যা বিশ্বাসসহ অন্তত পাঁচটি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
চিকিৎসার সংকট ও বাংলায় অনুপ্রবেশের নেপথ্যে
তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, সারান্ডার জঙ্গলে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য বাহিনীর কঠোর অবরোধের ফলে মাওবাদী ক্যাম্পগুলোতে জীবনদায়ী ওষুধের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছিল। ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন শ্রদ্ধা ও তাঁর এক সঙ্গী। রেশন বা গোলাবারুদ থাকলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে তাঁরা বাধ্য হয়ে জঙ্গল ছাড়েন। বিধানসভা নির্বাচনের ভোট পর্ব শেষে প্রশাসনের ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে তাঁরা নদিয়ায় প্রবেশ করেন। তাঁদের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল বাংলায় চিকিৎসা করিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে ছদ্মবেশে অসমে পালিয়ে যাওয়া। নদিয়ার কাশিমপুরের এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নিলেও গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ঝাড়খণ্ড পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের এসটিএফ যৌথ অভিযান চালিয়ে সোমবার ভোরে তাঁদের গ্রেফতার করে।
সংগঠনে প্রভাব ও গ্রেফতারির গুরুত্ব
শ্রদ্ধা বিশ্বাস দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা, ঝাড়খণ্ড ও সীমান্তবর্তী শিল্পাঞ্চলগুলোতে মাওবাদী কার্যকলাপে সক্রিয় ছিলেন। তিনি প্রবীণ মাওবাদী নেতা গৌর চক্রবর্তীর শ্যালিকা এবং তাঁর স্বামী শ্যাম শিঙ্কুও সক্রিয় মাওবাদী স্কোয়াডের সদস্য। গোয়েন্দাদের মতে, শ্রদ্ধার গ্রেফতারি মাওবাদী সংগঠনের আঞ্চলিক নেটওয়ার্কের জন্য একটি বড় ধাক্কা। নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে যখন রাজ্য জুড়ে কড়া নিরাপত্তা বজায় রয়েছে, তখন এই হাই-প্রোফাইল গ্রেফতারি সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা তৎপরতার সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এর ফলে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে মাওবাদীদের গোপন যাতায়াত ও নিরাপদ আশ্রয়ের পরিকল্পনা বড়সড় বাধার মুখে পড়ল।