১৬৮ শিশুমৃত্যুর বেদনাদায়ক স্মৃতি নিয়ে দিল্লি সফর, ইরানের বিদেশমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাল ভারত
আমেরিকার সঙ্গে চরম উত্তেজনার আবহে দুই দিনের সফরে ভারতে পা রাখলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি। বুধবার রাতে বিশেষ বিমানে তিনি নয়াদিল্লিতে পৌঁছলে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায় ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক। বর্তমান আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি এবং তেহরান-ওয়াশিংটন সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
মিনাব ১৬৮ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
ইরানের বিদেশমন্ত্রী যে বিশেষ বিমানে চড়ে ভারতে এসেছেন, তার নামকরণ করা হয়েছে ‘মিনাব ১৬৮’। এই নামটির নেপথ্যে রয়েছে এক হৃদয়বিদারক ইতিহাস। মার্কিন হামলায় মিনাবের একটি স্কুলে ১৬৮ জন ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখতেই এই নামকরণ। যুদ্ধের আবহ ও শোকের স্মৃতিকে সঙ্গী করেই আরাঘচি ভারতে ব্রিকস (BRICS) দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগ দিতে এসেছেন। ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে এস জয়শংকরের আমন্ত্রণে অংশ নিচ্ছেন তিনি।
হরমুজ প্রণালীর সংকট ও ভারতের ভূমিকা
বর্তমানে আমেরিকার সঙ্গে ইরানের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে ব্যাপক জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেও ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি এবং বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের জাহাজগুলিকে যাতায়াতের বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কার মধ্যেও ভারত কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছে।
কূটনৈতিক প্রভাব ও ব্রিকস সম্মেলন
বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার বর্তমান যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত নড়বড়ে। দু’পক্ষই একের পর এক শান্তি প্রস্তাব খারিজ করে দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্রিকস সম্মেলনকে ব্যবহার করে আমেরিকার ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে তেহরান। ভারত এই জোটের প্রভাবশালী সদস্য হওয়ায় এবং ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক সুসম্পর্ক বজায় রাখায়, এই সফর থেকে বড় কোনো কূটনৈতিক বার্তার প্রত্যাশা করছে ইরান। মূলত ব্রিকস দেশগুলির সমর্থন আদায় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পথ সুরক্ষিত রাখাই আরাঘচির এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।