প্রশ্নফাঁসে নিট বাতিল, স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণায় লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া
ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম, বিনিদ্র রজনী আর প্রস্তুতির অবসান হওয়ার কথা ছিল একটি পরীক্ষার মাধ্যমে। কিন্তু সেই স্বপ্নই এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ২০২৬ সালের ডাক্তারি পড়ার সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET UG) বাতিল ঘোষণা করেছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে দেশজুড়ে প্রায় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবার এক গভীর অনিশ্চয়তা ও মানসিক অবসাদের মুখে দাঁড়িয়েছে।
গত ৩ মে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের অসংখ্য প্রশ্ন একটি ফাঁস হওয়া ‘গেস পেপার’-এর সঙ্গে হুবহু মিলে যাওয়ার প্রমাণ মিলেছে। মেধার অসম লড়াই রুখতে এনটিএ কঠোর পদক্ষেপ নিলেও, এর মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ পড়ুয়াদের। বছরের পর বছর ধরে চলা সাধনা এক নিমেষে থমকে যাওয়ায় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র ভীতি, রাগ এবং ঘুমের সমস্যার মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে।
মানসিক স্বাস্থ্যের সংকট ও উত্তরণের পথ
মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হঠাৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়লে মানসিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়া স্বাভাবিক। এই সময়ে পড়ুয়াদের একা না থেকে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে মনের কথা ভাগ করে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। আবেগ চেপে রাখলে তা আত্মবিশ্বাসের ওপর দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে দূরে থাকাও জরুরি। শুধুমাত্র নির্ভরযোগ্য ও সরকারি সূত্রের তথ্যে আস্থা রাখলে অহেতুক আতঙ্ক কমানো সম্ভব।
পরিবারের ভূমিকা ও আগামীর দিশা
এই কঠিন সময়ে অভিভাবকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মনোবিদদের মতে, পরীক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপের বোঝা না চাপিয়ে তাঁদের পাশে থাকা এবং মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দৈনন্দিন রুটিন একেবারে ত্যাগ না করে হালকা পড়াশোনা, যোগব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুমের মাধ্যমে মানসিক স্থিরতা বজায় রাখা সম্ভব। মনে রাখতে হবে, প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষা বাতিল হওয়া কোনো পড়ুয়ার ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়। একটি পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়া মানেই মেধা বা সম্ভাবনার বিনাশ নয়, বরং নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর একটি কঠিন লড়াই মাত্র। অতিরিক্ত মানসিক অস্থিরতা দেখা দিলে বিলম্ব না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া শ্রেয়।