তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন, আইএসএফ শিবিরে নাম লেখাতে মরিয়া সংখ্যালঘু বিধায়করা

রাজ্য রাজনীতির আঙিনায় নতুন সমীকরণ তৈরির ইঙ্গিত দিয়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় ভাঙনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী তৃণমূলের ৩১ জন সংখ্যালঘু বিধায়কের মধ্যে একটি বড় অংশ ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট বা আইএসএফ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান চলাকালীনই এই দলবদলের জল্পনা রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

কঠিন শর্তে অনড় আইএসএফ নেতৃত্ব

তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক আইএসএফ-এ যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করলেও এখনই তাঁদের জন্য দলের দরজা খোলা হচ্ছে না। আইএসএফ শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, সরাসরি দলবদল করলে নিচুতলার কর্মীদের মনোবল ভেঙে যেতে পারে। বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের বিরুদ্ধে অতীতে আইএসএফ কর্মীদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ থাকায় সাধারণ কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের সামনে কঠিন শর্ত রাখা হয়েছে। আইএসএফ নেতৃত্বের মতে, যদি সত্যিই কেউ দলবদল করতে চান, তবে তাঁকে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে পুনরায় উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে আসতে হবে। এর ফলে নেতৃত্বের প্রতি তৃণমূল স্তরের কর্মীদের আস্থা অটুট থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও রাজনৈতিক অবস্থান

এই সম্ভাব্য দলবদল রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির মতে, আগামী দিনে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটে ধস নামার সম্ভাবনা প্রবল এবং সেই সমর্থন নিজেদের পক্ষে আনাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। শাসকদলের বিধায়কদের এই যোগাযোগ যদি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়, তবে তা বিধানসভার পাটিগণিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে ভাঙন ধরলে তা রাজ্যের শাসক শিবিরের জন্য যেমন উদ্বেগের কারণ হবে, তেমনই বিরোধী শিবিরের বিশেষত আইএসএফ-এর শক্তিবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা নেবে। এখন দেখার, আইএসএফ-এর দেওয়া শর্ত মেনে কতজন বিধায়ক শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করে নতুন লড়াইয়ের ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত হন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *