পুরুলিয়ায় তৃণমূলের পর্যালোচনা বৈঠকে গরহাজির দুই প্রার্থী, অনুপস্থিতির দীর্ঘ তালিকা ঘিরে তীব্র জল্পনা
নির্বাচনী বিপর্যয়ের কারণ খুঁজতে পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের ডাকা পর্যালোচনা বৈঠকে প্রকট হলো দলের অভ্যন্তরীণ অস্বস্তি। হারের ময়নাতদন্ত করতে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় দুই পরাজিত প্রার্থীর পাশাপাশি জেলা পরিষদের অধিকাংশ সদস্যের অনুপস্থিতি জেলার রাজনৈতিক মহলে নতুন সমীকরণ ও জল্পনার জন্ম দিয়েছে। ৪২ জন জেলা পরিষদ সদস্যের মধ্যে মাত্র ১৮ জন উপস্থিত থাকায় দলের অন্দরে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও সমন্বয়হীনতার অভিযোগ
বৈঠকের প্রাথমিক আলোচনায় উঠে এসেছে যে, জেলার অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং নেতাদের পারস্পরিক রেষারেষির কারণেই তৃণমূল প্রার্থীদের পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। বিশেষ করে মানবাজারের প্রার্থী তথা প্রাক্তন মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু এবং কাশীপুরের প্রার্থী সৌমেন বেলথরিয়ার অনুপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া ৯ জন কর্মাধ্যক্ষের মধ্যে ২ জন এবং ২৪ জন জেলা পরিষদ সদস্য গরহাজির থাকায় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব রীতিমতো চিন্তিত। অনেক নেতার অভিযোগ, হারের পরেও জেলা নেতৃত্বের মধ্যে কোনো হেলদোল নেই এবং সভার খবরও অনেককে আগাম জানানো হয়নি।
আগামী দিনের প্রভাব ও সাংগঠনিক পদক্ষেপ
বৈঠকে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা লক্ষ্য করা গেলেও জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান শান্তিরাম মাহাতো হার মেনে নিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে আগামী সোমবার জেলা পরিষদের সদস্যদের নিয়ে পৃথক একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে, দলের বেশ কিছু সদস্য তলে তলে অন্য শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ব্লক সভাপতিদের কাছ থেকে পরাজয়ের বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে যাতে পরবর্তী সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা সহজ হয়। জেলা পরিষদের রাশ ধরে রাখতে মরিয়া নেতৃত্ব এখন আগামী সোমবারের বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন।