ভোটের ফসলেই খুলল আলুর দুয়ার, রফতানি নীতিতে বড় বদল আনলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

আলু-বলয়ে নির্বাচনী সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই বড়সড় নীতিগত বদল আনল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। বুধবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, আলু রফতানির ক্ষেত্রে আগের সরকারের চাপানো সমস্ত বিধি-নিষেধ ও আইনি জটিলতা তুলে নেওয়া হচ্ছে। মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবালকে পাশে রেখে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, ভিন্‌রাজ্যে আলু পাঠানোর ক্ষেত্রে চাষি ও ব্যবসায়ীদের আর কোনও হয়রানির শিকার হতে হবে না।

চাষিদের স্বস্তি ও ব্যবসায়িক স্বাধীনতা

আগের সরকারের আমলে রাজ্যের আলু ভিন্‌রাজ্যে পাঠানোর ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ছিল। সীমান্ত এলাকায় পুলিশি তল্লাশি এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরের কড়াকড়িতে আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুব্ধ ছিলেন। নতুন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে পুলিশ বা অন্য কোনও সংস্থা আলু পরিবহণে বাধা দিতে পারবে না। শুধুমাত্র আলু নয়, অন্যান্য কৃষিজ পণ্য ভিন্‌রাজ্যে পাঠানোর ক্ষেত্রেও সরকার উদারপন্থী নীতি গ্রহণ করেছে। এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতি। ব্যবসায়ীদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিনের আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে তারা রক্ষা পাবেন।

ভোটের সমীকরণ ও রাজনৈতিক প্রভাব

রাজনৈতিক মহলের মতে, হুগলি ও পূর্ব বর্ধমানের মতো আলু-বলয়ে তৃণমূলের ভরাডুবিই এই দ্রুত সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ। ২০২১ সালে যে অঞ্চলে তৃণমূল একচ্ছত্র আধিপত্য দেখিয়েছিল, ২০২৬-এর নির্বাচনে সেই ২৫টি আলু-প্রধান আসনের মধ্যে ২১টিতেই জয়ী হয়েছে বিজেপি। সিঙ্গুর, হরিপাল, তারকেশ্বর ও পান্ডুয়ার মতো উর্বর জমিতে তৃণমূলের পরাজয় প্রমাণ করেছে যে, কৃষি নীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছিল। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মাত্র চার দিনের মাথায় এই ঘোষণা করে শুভেন্দু অধিকারী মূলত সেই কৃষিভিত্তিকেই সংহত করতে চাইলেন। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আসার পাশাপাশি আন্তঃরাজ্য বাণিজ্যে বাংলার কৃষিপণ্যের গুরুত্ব আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *