তপসিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি, কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে সাসপেন্ড দমকল আধিকারিক
তপসিয়ার চামড়ার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বড়সড় পদক্ষেপ করল রাজ্য প্রশাসন। মঙ্গলবার দুপুরের সেই মর্মান্তিক ঘটনায় দুই শ্রমিকের মৃত্যু ও একাধিক ব্যক্তির দগ্ধ হওয়ার ঘটনায় বিভাগীয় তদন্তের পর কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে প্রগতি ময়দান দমকলকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক গৌতম দাসকে বুধবার সাসপেন্ড বা নিলম্বিত করেছে দমকল এবং জরুরি বিভাগ। রাজ্য দমকলের ডিরেক্টর জেনারেলের (ডিজি) পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
নজরদারিতে খামতি ও কঠোর ব্যবস্থা
দমকলের জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, প্রগতি ময়দান দমকলকেন্দ্রের স্টেশন অফিসার হিসেবে গৌতম দাসের অধীনে থাকা এলাকায় অগ্নি-নিরাপত্তা আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে এবং নিয়মিত পরিদর্শনে গুরুতর খামতি ছিল। মূলত নজরদারির অভাবেই ওই চামড়ার কারখানায় কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়নি বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত আধিকারিককে অবিলম্বে সাসপেন্ড করে আগামী এক মাসের মধ্যে বিভাগীয় তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নিলম্বন চলাকালীন তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দমকলের সদর দফতর ত্যাগ করতে পারবেন না।
অবৈধ নির্মাণ ও প্রশাসনের কড়া অবস্থান
তপসিয়ার ৫০/১ জিজে খান রোডের ওই বহুতলটিতে আগুন লাগার পর বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মঙ্গলবার দুপুরে লাগা আগুনে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধার করতে গিয়ে বেগ পেতে হয় দমকলকর্মীদের। পরে জানা যায়, বহুতলটি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন। তাঁর নির্দেশের পর বুধবারই বুলডোজার দিয়ে বিতর্কিত কারখানাটি ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও নিরাপত্তা বিধি
এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রশাসন বার্তা দিতে চাইছে যে, জনসুরক্ষার প্রশ্নে কোনো আধিকারিকের শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না। তপসিয়া, কসবা, তিলজলা বা একবালপুরের মতো ঘিঞ্জি এলাকাগুলোতে গড়ে ওঠা অবৈধ নির্মাণগুলোর বিরুদ্ধেও এবার যুদ্ধকালীন তৎপরতায় অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এই ধরনের বিপজ্জনক ভবনগুলোর বিদ্যুৎ ও জলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দমকলের এই কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতে শহরের অন্যান্য কারখানা ও বহুতলগুলোতে অগ্নি-সুরক্ষা বিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।