লুক আউট নোটিস উপেক্ষা করে অবশেষে ইডি দপ্তরে হাজিরা, বিপাকে পুলিশ কর্তা শান্তনু
কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) শান্তনু সিনহা বিশ্বাস দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) মুখোমুখি হলেন। বালি পাচার এবং আর্থিক তছরূপের মামলায় নাম জড়িয়ে পড়ার পর থেকে একাধিকবার তলব করা হলেও তিনি হাজিরা এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কড়া পদক্ষেপ ও লুক আউট নোটিসের চাপে তিনি সিজিও কমপ্লেক্সে উপস্থিত হতে বাধ্য হলেন।
তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও লুক আউট নোটিস
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, এর আগে মোট পাঁচবার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। প্রতিবারই হাই-প্রোফাইল নিরাপত্তা ব্যবস্থার দোহাই দিয়ে তিনি হাজিরা এড়িয়েছেন। এমনকি বিষয়টি নিয়ে ইডি সরাসরি ডিরেক্টর অফ সিকিউরিটিকে চিঠি পাঠাতে বাধ্য হয়। তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন, এমন আশঙ্কা থেকে বিমানবন্দর ও রেল স্টেশনগুলোতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। ইতিপূর্বে তাঁর ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করেছিলেন গোয়েন্দারা, যা এই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
অভিযোগের নেপথ্যে ও সম্ভাব্য প্রভাব
শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মূলত বালি পাচার কাণ্ডে জড়িত থাকার এবং বিপুল পরিমাণ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া জমি দখল ও তোলাবাজি সংক্রান্ত মামলার সাথেও তাঁর যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে ইডি। দীর্ঘ সময় কালীঘাট থানার দায়িত্বে থাকায় এবং প্রশাসনের শীর্ষ মহলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হওয়ার কারণে এই জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই পুলিশ কর্তার বয়ান থেকে বালি পাচারের ‘গডফাদার’ বা এই বিপুল অর্থের আসল গন্তব্য কোথায়, সে সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে রাজ্য রাজনীতি ও পুলিশ মহলে বড় ধরনের রদবদল বা অস্বস্তি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।