আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজের প্রিন্সিপাল অপসারিত, দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ ডা. গিরি
ঐতিহ্যশালী আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রিন্সিপাল পদ থেকে অপসারিত হলেন ডা. তপনকুমার গিরি। দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও একাধিক অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যভবন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন বর্ধমান ডেন্টাল কলেজের ডা. সৈলেন্দ্র নাথ বিশ্বাস। ডা. গিরির অপসারণের খবর প্রকাশ্যে আসতেই ন্যাশনাল মেডিকোজ অর্গানাইজেশন (এনএমও) এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।
অভিযোগের পাহাড় ও ক্ষমতার প্রভাব
ন্যাশনাল মেডিকোজ অর্গানাইজেশনের দাবি অনুযায়ী, ডা. গিরি গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মনোনীত প্রিন্সিপাল হিসেবে কাজ করছিলেন। অভিযোগ উঠেছে যে, ন্যাশনাল ডেন্টাল কমিশনের নিয়ম লঙ্ঘন করে ৬৫ বছর বয়সের পরেও তিনি পদে বহাল ছিলেন। এনএমও-র মতে, প্রাক্তন শাসকদলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়েই তিনি দীর্ঘ সময় ধরে পদটি আঁকড়ে ধরেছিলেন। এই সময়ের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে।
স্বজনপোষণ ও প্রশাসনিক অনিয়ম
ডা. গিরির বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ তাঁর মেয়ের কর্মজীবন নিয়ে। এনএমও-র অভিযোগ, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বিডিএস এবং এমডিএস সম্পন্ন করা সত্ত্বেও ২০১৬ সালে ডা. গিরির মেয়ে হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন এবং আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজেই নিয়োগ পান। পরবর্তীতে নিয়ম বহির্ভূতভাবে তাঁকে দ্রুত পদোন্নতি দিয়ে নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয় এবং মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজে বিভাগীয় প্রধান (এইচওডি) হিসেবে ফিরিয়ে আনা হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, সিনিয়রিটির তোয়াক্কা না করেই তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছিল।
সম্ভাব্য প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি
এই অপসারণের ফলে রাজ্যের চিকিৎসা শিক্ষা ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার বার্তা দিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। ডা. গিরির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার দাবি জোরালো হচ্ছে। চিকিৎসক সংগঠনের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে যোগ্য প্রার্থীরা সঠিক মূল্যায়নের সুযোগ পাবেন এবং প্রশাসনিক স্তরে সখ্যতা ও স্বজনপোষণের ধারা বন্ধ হবে। নতুন প্রিন্সিপালের নিয়োগের মাধ্যমে আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে বিদায়ী প্রিন্সিপাল ডা. তপনকুমার গিরির পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।