মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ, পকেটে টান পড়তে পারে আমজনতার
আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়তে চলেছে দেশের জ্বালানি বাজারে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জেরে দেশে পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা। সুইৎজারল্যান্ডে আয়োজিত এক সম্মেলনে তিনি জানান, পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে জ্বালানির এই বর্ধিত ব্যয়ের বোঝা সরকারের পক্ষে এককভাবে বহন করা সম্ভব হবে না। এর ফলে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর বাড়তি দামের বোঝা চাপার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও আমদানিতে প্রভাব
মূলত মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার কারণে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ভারত তার প্রয়োজনীয় তেল, গ্যাস এবং সারের একটি বিশাল অংশ আমদানির মাধ্যমে মেটায়। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম লাগামহীন হয়ে পড়ায় দেশের আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নরের মতে, সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার কারণে যে ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা দীর্ঘমেয়াদে খুচরো বাজারে প্রতিফলিত হওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা।
সাশ্রয়ের পরামর্শ ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ
বিদ্যমান সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই দেশবাসীকে জ্বালানি ব্যবহারে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে কারপুলিং, মেট্রো এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ভারতীয় মুদ্রার মানও হ্রাস পেয়েছে, যার ফলে আমদানি ব্যয় আরও কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত না হলে অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রল-ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে পারে, যা পরোক্ষভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতেও ইন্ধন জোগাবে।