আদালতে মমতা, গুরুত্ব না দিয়ে প্রশাসনিক কাজে মগ্ন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার এক অভূতপূর্ব ঘটনার সাক্ষী থাকল কলকাতা হাইকোর্ট। আইনজীবীর পোশাক পরে এদিন উচ্চ আদালতে সওয়াল করতে হাজির হন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসা মামলায় দলের হয়ে আইনি লড়াই লড়তে তাঁর এই উপস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে। তবে এই বিষয়টিকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিতে রাজি নন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনিক ব্যস্ততা এবং নতুন সরকার পরিচালনার দায়িত্বই এখন তাঁর কাছে প্রধান অগ্রাধিকার বলে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
বিরোধীদের আইনি লড়াই বনাম প্রশাসনের ব্যস্ততা
বিধানসভায় নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান চলাকালীন সাংবাদিকরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাইকোর্ট যাত্রা নিয়ে প্রশ্ন করলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত দৃঢ় মনোভাব প্রকাশ করেন। তিনি সাফ জানান যে, বিরোধীদের এসব কর্মসূচি নিয়ে ভাবার মতো সময় তাঁর হাতে নেই। তাঁর কথায়, “আমার অনেক কাজ, এসব নিয়ে ভাবার সময় নেই। আমি এসব নিয়ে ভাবতেও রাজি নই।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, আইনি জটিলতা বা রাজনৈতিক কর্মসূচির চেয়েও সরকারি কাজ সচল রাখা এবং জনগণের সেবা করাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
বিধানসভার নতুন অধ্যক্ষ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
রাজনৈতিক লড়াইয়ের মাঝেও সংসদীয় কাঠামো মজবুত করতে পদক্ষেপ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের অভিজ্ঞ বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসুকে বিধানসভার পরবর্তী অধ্যক্ষ হিসেবে মনোনীত করেছেন তিনি। উত্তরবঙ্গের এই নেতার ওপর আস্থা প্রকাশ করে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে, তাঁর হাত ধরে বিধানসভার গরিমা ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য সুরক্ষিত থাকবে। একদিকে যখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আদালতের বারান্দায় ব্যস্ত, তখন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী নবান্ন থেকে বিধানসভা—সর্বত্র প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে মরিয়া। শিক্ষা থেকে শুরু করে সংসদীয় নির্বাচন, প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের সক্রিয় উপস্থিতি বজায় রেখে তিনি এক স্পষ্ট প্রশাসনিক বার্তা দিতে চাইছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী শিবিরের আইনি তৎপরতাকে উপেক্ষা করে উন্নয়নের কাজে মনোনিবেশ করাই এখন নতুন সরকারের কৌশল।