বাংলার মানুষকে বাঁচান, হাই কোর্টে বুলডোজার অ্যাকশন রুখতে আর্জি মমতার

কলকাতা হাই কোর্টে আইনজীবীর পোশাকে সওয়াল করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা এবং বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ রুখতে প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে জোরালো সওয়াল করেন তিনি। সওয়াল চলাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানান, বাংলা আর উত্তরপ্রদেশ এক নয়, এখানে বুলডোজার সংস্কৃতি চলতে দেওয়া যাবে না। ১৯৮৫ সাল থেকে আইনজীবী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি আদালতের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

এজলাসে চাঞ্চল্য ও অভিযোগের পাহাড়

তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, রাজ্যের তফশিলি জাতি, সংখ্যালঘু এবং সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো হচ্ছে। এমনকি ৯২ বছরের বৃদ্ধ থেকে শুরু করে ১৮ বছরের দম্পতিকেও বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। ১২ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের হুমকি এবং সাধারণের রুটিরুজি বন্ধ করার মতো গুরুতর অভিযোগও তিনি এজলাসে তুলে ধরেন। মমতা দাবি করেন, পরিস্থিতির জেরে তিনি নিজে থানা পর্যন্ত যেতে পারছেন না এবং তাঁকে অনলাইনে অভিযোগ জানাতে হচ্ছে। তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট পরবর্তী হিংসার ১০টি মামলাকে একত্রিত করে শুনানির আর্জি জানান।

পাল্টা যুক্তি ও বিক্ষোভের আবহ

অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলি খণ্ডন করার চেষ্টা করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, যেখানেই অশান্তি হচ্ছে পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং সমস্ত গন্ডগোলকে ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস বলা চলে না। তবে সওয়াল শেষে এজলাস থেকে বেরোনোর সময় নজিরবিহীন পরিস্থিতির সম্মুখীন হন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। আইনজীবীদের একাংশ তাঁকে লক্ষ্য করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং সেখানে স্লোগান ও পাল্টা স্লোগানকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত দলীয় আইনজীবীদের ঘেরাটোপে তিনি আদালত চত্বর ত্যাগ করেন। এই আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক উত্তাপ রাজ্যের প্রশাসনিক ও বিচারবিভাগীয় ক্ষেত্রে গভীর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *