মমতার ‘ল’ প্র্যাকটিস’ নিয়ে বড় প্রশ্ন, রিপোর্ট চাইল বার কাউন্সিল
কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবীর পোশাকে হাজির হয়ে চমক দিলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট-পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সওয়াল করেন তিনি। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে দাঁড়িয়ে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করে তিনি স্পষ্ট জানান যে, বাংলা বুলডোজার চালানোর রাজ্য নয়। তবে এই ঘটনায় দানা বেঁধেছে নতুন বিতর্ক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করার আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (বিসিআই)।
বিসিআই-এর কড়া পদক্ষেপ ও নথিপত্র তলব
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টের ভিত্তিতে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। বিসিআই মূলত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এনরোলমেন্ট স্ট্যাটাস, প্র্যাকটিস করার অনুমতি এবং তাঁর সদস্যপদ বর্তমানে স্থগিত রয়েছে কি না, সেই বিষয়ে স্বচ্ছতা চাইছে। আগামী ১৬ মে ২০২৬-এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলকে এই সংক্রান্ত সমস্ত নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনজীবীদের পেশাগত আচরণ ও শিষ্টাচারের মানদণ্ড অনুযায়ী এই তদন্ত প্রক্রিয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আইনজীবী পরিচয়ে ফেরার নেপথ্যে ও সম্ভাব্য প্রভাব
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ব্যস্ত থাকলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতার যোগেশচন্দ্র চৌধুরী আইন কলেজ থেকে ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। সম্প্রতি তিনি পুনরায় প্র্যাকটিস শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতেই তিনি এদিন সওয়াল করতে আসেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বার কাউন্সিলের এই রিপোর্ট তলবের ফলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী হিসেবে কাজ করার পথে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। যদি প্রমাণিত হয় যে তাঁর প্র্যাকটিস করার লাইসেন্স নিয়মানুযায়ী সচল নেই, তবে আদালতের সওয়ালে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। পাশাপাশি, হাইকোর্ট চত্বরে তাঁকে লক্ষ্য করে বিরোধী শিবিরের স্লোগান ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।