অভিষেকের গড়ে শুভেন্দুর প্রথম প্রশাসনিক সভা, নজরে কি ফলতা বিধানসভার হাইভোল্টেজ নির্বাচন?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এবার সরাসরি প্রতিপক্ষের দুর্গে হানা দিতে চলেছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী শনিবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারে নিজের প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক করতে যাচ্ছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রশাসনিক কর্মসূচির আড়ালে এই সফর আসলে ফলতা বিধানসভার আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এক সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল।

ডায়মন্ড হারবারে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র বদলের ইঙ্গিত

২০১৪ সাল থেকে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রটি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অজেয় দুর্গ হিসেবে পরিচিত থাকলেও সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে সেই দাপটে বড়সড় ধস নেমেছে। লোকসভা নির্বাচনে যে ব্যবধান ছিল লক্ষাধিক, বিধানসভায় তা অনেকটাই কমে এসেছে। বিশেষ করে সাতগাছিয়ার মতো কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীর জয় পদ্ম শিবিরকে বাড়তি অক্সিজেন দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে খোদ অভিষেকের সংসদীয় এলাকায় প্রশাসনিক বৈঠক করে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছেন যে, উন্নয়ন ও প্রশাসনের রাশ এখন সম্পূর্ণ নতুন সরকারের হাতে। নবান্ন সূত্রে খবর, এই বৈঠক থেকে এলাকার মানুষের জন্য একাধিক জনকল্যাণমুখী প্রকল্প ও উন্নয়নমূলক কাজের ঘোষণা করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।

ফলতার লড়াই ও রাজনৈতিক সমীকরণ

আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন হতে চলেছে। এই নির্বাচনকে ঘিরে শাসক ও বিরোধী— উভয় পক্ষই এখন তুঙ্গে প্রচার চালাচ্ছে। একদিকে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানকে নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক, অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশের আইপিএস অফিসারকে আনা নিয়ে যে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছিল, তার সুবিধা নিতে মরিয়া বিজেপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর এই সফর এবং প্রশাসনিক সক্রিয়তা সরাসরি ফলতার ভোটের পালে হাওয়া কাড়বে। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পন্ডার পক্ষে জনমত তৈরিতে মুখ্যমন্ত্রীর এই উপস্থিতিকে তুরুপের তাস হিসেবে দেখছে গেরুয়া শিবির।

প্রশাসনের জিরো টলারেন্স ও নতুন মেরুকরণ

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তপসিয়ায় অবৈধ নির্মাণ ভাঙা থেকে শুরু করে স্কুলে ‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতামূলক করার মতো সিদ্ধান্তের পর ডায়মন্ড হারবার সফর তার প্রশাসনিক ক্যালেন্ডারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শুক্রবার স্পিকার নির্বাচন মিটে গেলেই বিধানসভার ব্যস্ততা কিছুটা কমবে, আর সেই সুযোগেই সরাসরি দক্ষিণ ২৪ পরগনার মাটিতে দাঁড়িয়ে নিজের শক্তি প্রদর্শন করতে চাইছেন তিনি। এই সফরের মধ্য দিয়ে জেলা প্রশাসনে বিরোধী কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করে উন্নয়নের নতুন মডেল তুলে ধরাই এখন মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *