আধা সামরিক বাহিনী দিয়ে ১০০ আসনে লুঠের অভিযোগ, গণনাকেন্দ্রে কারচুপির দাবি তুলে সরব অভিষেক

সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এবার নির্বাচনী রায় নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এই নির্বাচনী ফলাফল প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন নয়, বরং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে জোরপূর্বক জয় হাসিল করা হয়েছে। একই দিনে ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সশরীরে হাজিরা এবং তাঁকে কেন্দ্র করে স্লোগান ঘিরে রাজনৈতিক পারদ আরও চড়েছে।

গণনাকেন্দ্রে লুঠ ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা

সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া একটি ভিডিও বার্তায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, প্রায় ১০০টি আসনের গণনাকেন্দ্রে আধা সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করে ভোট লুট করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি স্পষ্ট জানান, মানুষ যে রায় দেয় তা সর্বদা মাথা পেতে নেওয়া উচিত, কিন্তু এই রায় মানুষের দেওয়া প্রকৃত রায় নয়। বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতার লোভে বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুর, পার্টি অফিস দখল এবং হিংসার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে, যা মূলত তাদের চারিত্রিক দুর্বলতা ও ভয়েরই বহিঃপ্রকাশ। এই কঠিন পরিস্থিতির তুলনা টেনে তিনি সিঙ্গুর আন্দোলনের স্মৃতি স্মরণ করান এবং দলীয় কর্মীদের মনোবল শক্ত রেখে এই ‘অগ্নিপরীক্ষা’ পার করার আহ্বান জানান।

মামলার জল হাইকোর্টে এবং রাজনৈতিক প্রভাব

তৃণমূলের এই সুর চড়ানোর সমান্তরালে ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি এবং বুলডোজার দিয়ে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার মামলা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে উপস্থিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে আদালত চত্বরে তাঁকে দেখে ‘চোর চোর’ স্লোগান ওঠায় পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণনাকেন্দ্রে কারচুপির এই গুরুতর অভিযোগ এবং আইনি লড়াইয়ের এই জোড়া কৌশল আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলবে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিসক্রিয়তা এবং আইন-শৃঙ্খলার এই টানাপোড়েন রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *