সংসদীয় ইতিহাসে নতুন অধ্যায়, বন্দেমাতরম দিয়ে শুরু বিধানসভায় তুমুল স্লোগান যুদ্ধ
পশ্চিমবঙ্গের সংসদীয় ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে শুরু হলো ১৮তম বিধানসভার প্রথম অধিবেশন। রাজ্যের ইতিহাসে এই প্রথমবার ‘বন্দেমাতরম’ গান গেয়ে অধিবেশন কক্ষের কাজ শুরু হয়। তবে এই ঐতিহাসিক সূচনার গাম্ভীর্য স্থায়ী হয়নি বেশি ক্ষণ। শাসক ও বিরোধী শিবিরের তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত, স্লোগান ও পাল্টা স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে বিধানসভা কক্ষ। এই চরম উত্তেজনার আবহেই শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন হয় নতুন অধ্যক্ষ বা স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া।
স্লোগান যুদ্ধ ও বিরোধীশূন্য কক্ষ
অধিবেশন শুরু হতেই শাসক দল বিজেপির ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে ‘ভারত মাতা কী জয়’ স্লোগান উঠতে শুরু করে। এর জবাবে বিরোধী বেঞ্চে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়করা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন বিজেপি বিধায়করা সরাসরি ‘চোর চোর’ এবং ‘ফাইল চোর মমতা’ স্লোগান তুলে আক্রমণাত্মক ভূমিকা নেন। পাল্টা হিসেবে তৃণমূল বিধায়করাও সিএস (CS)-কে ব্যবহার করে ‘ভোট লুটের’ অভিযোগ তুলে সরব হন। এই চরম বিশৃঙ্খলা ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের এক পর্যায়ে, স্পিকার নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার ঠিক আগেই তৃণমূল বিধায়করা জাতীয় সঙ্গীত ঠিক মতো গাওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তুলে একযোগে কক্ষ ত্যাগ করেন। ফলে স্পিকার নির্বাচনের সময় বিধানসভা কক্ষ সম্পূর্ণ বিরোধীশূন্য হয়ে পড়ে, যদিও কয়েক মিনিট পরেই তাঁরা আবার কক্ষে ফিরে আসেন।
নতুন স্পিকার নির্বাচন ও রাজনৈতিক মেরুকরণ
এই হট্টগোলের মধ্যেই সরকার পক্ষ স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারিভাবে কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসুর নাম স্পিকার পদের জন্য প্রস্তাব করেন। সেই প্রস্তাবকে সমর্থন জানান মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায় শেষমেশ অধ্যক্ষ হিসেবে নির্বাচিত হন রথীন্দ্রনাথ বোস।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘বন্দেমাতরম’ গেয়ে অধিবেশন শুরু করার এই সিদ্ধান্ত এবং প্রথম দিনেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই চরম সংঘাত রাজ্যের সংসদীয় সংস্কৃতিতে এক গভীর রাজনৈতিক মেরুকরণের ছবি স্পষ্ট করে দিয়েছে। বিধানসভার প্রথম দিনের এই উত্তাপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী দিনগুলিতে নীতি নির্ধারণ ও রাজ্য রাজনীতিকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী দ্বৈরথ আরও তীব্র ও আগ্রাসী রূপ নিতে চলেছে।