১১ মাস বিরোধীদের বাইরে রেখে অধিবেশন নয়, বিধানসভায় সুস্থ গণতন্ত্রের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
১৮তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই এক নজিরবিহীন ও তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসু সর্বসম্মতভাবে স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর, তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, রাজ্যের সংসদীয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, পরিকাঠামো এবং মর্যাদা ফেরাতে তাঁর সরকার সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ। অতীতের তিক্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতি ঝেড়ে ফেলে রাজ্যের সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের গরিমা পুনরুদ্ধার করাই এখন নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য।
স্বচ্ছতা ও বিরোধীদের মর্যাদা রক্ষা
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে বিধানসভার সমস্ত কার্যাবলি সরাসরি লাইভ সম্প্রচার করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সংসদীয় গণতন্ত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ বলে তিনি জানান। একই সাথে পূর্বতন সরকারের আমলের সংসদীয় আচরণের তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, “বিরোধী দলনেতাকে ১১ মাস বিধানসভার বাইরে রেখে আমরা অধিবেশন চালাতে চাই না।” কোনও সদস্যকে মারধর করে হাসপাতালে পাঠিয়ে বিধানসভা চালানোর নেতিবাচক সংস্কৃতিতে তাঁর সরকার বিশ্বাসী নয় উল্লেখ করে তিনি নবনিযুক্ত অধ্যক্ষকে অনুরোধ করেন, যেন বিরোধী পক্ষকে বক্তব্য রাখার জন্য যথাযোগ্য মর্যাদা ও পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়।
আসন পুনর্বিন্যাস ও নতুন ভবনের রূপরেখা
আসন্ন ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাসের কারণে ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া নিশ্চিত। বর্তমান পরিকাঠামোয় সেই বাড়তি বিধায়কদের সংকুলান হওয়া যে কঠিন, সেই বাস্তব পরিস্থিতিও এদিন তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে অধ্যক্ষের নেতৃত্বে একটি সর্বাধুনিক ও নতুন বিধানসভা ভবন তৈরি করার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান তিনি, যেখানে রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে। চতুর্থবারের বিধায়ক হিসেবে নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সমস্ত নির্বাচিত সদস্যদের ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। প্রথম দিনের এই অধিবেশন স্পষ্ট করে দিল যে, নব্য বিজেপি সরকার কেবল শাসন ব্যবস্থায় নয়, বিধানসভার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও এক বড়সড় গুণগত বদল আনতে চাইছে।