রাতারাতি কেন সরানো হল বালুর কন্যাকে? শিক্ষা সংসদে বড় সিদ্ধান্তে জল্পনা তুঙ্গে

রাজ্যে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক বড়সড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিল স্কুল শিক্ষা দফতর। উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কন্যা প্রিয়দর্শিনী মল্লিককে। বিকাশ ভবনের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করে তাঁকে এই গুরুদায়িত্ব থেকে অপসারিত করা হয়েছে। একই সাথে তাঁকে তাঁর পুরনো কর্মস্থল কলকাতার আশুতোষ কলেজের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা দফতরের ডেপুটি সেক্রেটারির স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও প্রশাসনিক পুনর্গঠন সংক্রান্ত নির্দেশিকার ওপর ভিত্তি করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অপসারণের কারণ
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে সাম্প্রতিক প্রশাসনিক রদবদলের পর থেকেই প্রিয়দর্শিনী মল্লিকের অপসারণ নিয়ে গুঞ্জন চলছিল। খাদ্য দুর্নীতি মামলায় বাবা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তাঁকে নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধে। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে তিনি এই শীর্ষ পদে আসীন হলেও, বর্তমান প্রশাসনের দুর্নীতিবিরোধী ও প্রশাসনিক সংস্কার নীতির কারণে তাঁর এই অপসারণ অত্যন্ত প্রত্যাশিত ছিল। জানা গেছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রিয়দর্শিনীকে পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি তা করেননি। এছাড়া, গত বেশ কিছুদিন ধরে শিক্ষা সংসদে তাঁর অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে প্রশাসনিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছিল বলেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল।
প্রশাসনিক স্তরে সম্ভাব্য প্রভাব
উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশের রাতেই সচিব স্তরের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল রাজ্যের শিক্ষা ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বর্তমান প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিল যে, বিগত জমানার দুর্নীতিগ্রস্ত ভাবমূর্তি বা স্বজনপোষণের অভিযোগ থাকা কোনো ব্যক্তিকেই আর গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হবে না। প্রিয়দর্শিনীর এই অপসারণ শিক্ষা সংসদের দৈনন্দিন কার্যকলাপে গতি আনবে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে শিক্ষা ও অন্যান্য সরকারি দফতরে আরও বড়সড় রদবদলের সম্ভাবনা জোরালো হলো।