রং বদলের খেলা ও ফাটল ধরার ইঙ্গিত তৃণমূল শিবিরে! সায়নীর ‘বেনোজল’ মন্তব্যে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই উত্তপ্ত বাংলার রাজনৈতিক মহল। নির্বাচনে জয়ের পরই তৃণমূল কংগ্রেসকে ভাঙানোর খোলাখুলি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই হুঁশিয়ারির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার লোকসভায় তৃণমূলের দলীয় ফাটল নিয়ে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দিল্লির রাজনীতিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা মজবুত করতে এবং টিডিপির ওপর নির্ভরতা কমাতে বিজেপি তৃণমূলের কয়েকজন সাংসদকে টার্গেট করছে বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে গতকাল তৃণমূল সাংসদদের বৈঠক শেষে দলের তারকা সাংসদ সায়নী ঘোষের একটি মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

তৃণমূল শিবিরে ভাঙন ও দলবদলের গুঞ্জন

ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন স্তরে তৃণমূলের নীচু ও মাঝারি সারির কর্মীদের মধ্যে রাতারাতি রং বদলানোর হিড়িক দেখা গেছে। বহু এলাকায় অটো, টটো থেকে তৃণমূলের পতাকা নামিয়ে বিজেপির পতাকা লাগানোর খবর সামনে এসেছে। এমনকি তৃণমূলের বেশ কয়েকজন বিধায়কের সাম্প্রতিক অবস্থান এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। শপথগ্রহণের পরই মুর্শিদাবাদ জেলার কয়েকজন তৃণমূল বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন। অন্যদিকে, সিতাইয়ের তৃণমূল বিধায়ক সঙ্গীতা রায় বসুনিয়াকে শপথগ্রহণের আগে বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে বসে থাকতে এবং শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে একান্তে কথা বলতে দেখা গেছে। সঙ্গীতা রায় বসুনিয়া আবার তৃণমূল সাংসদ জগদীশ বসুনিয়ার স্ত্রী হওয়ায় সাংসদ মহলেও ভাঙনের ইঙ্গিত স্পষ্ট হচ্ছে।

সায়নীর ‘বেনোজল’ তত্ত্ব এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

সংসদে বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা সুসংহত করতে তৃণমূলের সাংসদদের একাংশকে পদ্মশিবিরে টানার যে চেষ্টা চলছে, সেই বিষয়ে সায়নী ঘোষকে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি বিষয়টি অস্বীকার করেননি। নিজেকে রাজনীতিতে নতুন বলে উল্লেখ করলেও তিনি একটি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন। সায়নী স্পষ্ট জানান, এই কঠিন সময়ে যারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে চলে যাবেন, তারা দলের জন্য ‘বেনোজল’। আর এই বেনোজল যত দ্রুত দল থেকে বেরিয়ে যাবে, দলের জন্যই তত মঙ্গল।

বিশ্লেষকদের মতে, সায়নীর এই মন্তব্য পরোক্ষভাবে দলে ফাটল ধরার সম্ভাবনাকে স্বীকার করে নিচ্ছে। নীচু তলার দলবদল ঠেকাতে এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্রচার জোরদার করতে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই একাধিক বৈঠক ও আইটি সেলে রদবদল করেছেন। তবে শীর্ষ স্তরের বা সাংসদ পদের জনপ্রতিনিধিরা যদি সত্যিই শিবির বদল করেন, তবে তা জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের শক্তি যেমন কমাবে, তেমনই দিল্লির দরবারে বিজেপির অবস্থানকে অনেকটাই নিষ্কণ্টক করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *