তৃণমূল ফিরলে দেড়শোর ওপর লাশ পড়ত! বিধানসভায় বিস্ফোরক তাপস রায়
রাজ্য রাজনীতিতে পটপরিবর্তনের পর প্রথম বিধানসভা অধিবেশনের প্রথম দিনই বেনজিরভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কক্ষ। ভোট পরবর্তী হিংসা এবং রাজ্যের পূর্বতন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ‘ভয়ের সংস্কৃতি’ নিয়ে বিধানসভার অভ্যন্তরে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন মানিকতলার বিধায়ক তাপস রায়। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনকে কেবল সরকার গড়ার লড়াই নয়, বরং ‘ধর্মযুদ্ধ’ বলে আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল না হলে এবারও বিরোধীদের রক্তগঙ্গা বইত।
ভোট পরবর্তী হিংসা ও ভয়ের সংস্কৃতি
দীর্ঘ দেড় দশক ধরে চলা রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গ টেনে তাপস রায় দাবি করেন, রাজ্যে এবার সরকার পরিবর্তন না হলে বিজেপির অন্তত ১৫০ জনের ওপর কর্মীর লাশ গুনতে হতো। পূর্ববর্তী বছরগুলোর অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, তৃণমূল পুনরায় ক্ষমতায় ফিরলে বিরোধীদের ঘরবাড়ি, দোকানপাট জ্বালিয়ে দেওয়া হতো এবং লক্ষ লক্ষ সমর্থককে ঘরছাড়া হতে হতো। অতীতে রাজ্যে একটি নির্বাচনও রক্তপাতহীন হয়নি উল্লেখ করে তিনি বিধানসভাকে আশ্বাস দেন, যদি বর্তমানে কোনো ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা ঘটে এবং তাতে তাঁর নাম জড়ায়, তবে মুখ্যমন্ত্রী যেন তাঁকে সরাসরি জেলে পাঠান। নাম না করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, বিগত দিনে ব্লক স্তরের বিজেপি প্রার্থীদের হাড়গোড় ভেঙে দেওয়ার যে হুমকি দেওয়া হয়েছিল, জনগণ এবার ব্যালটের মাধ্যমে তার জবাব দিয়েছে।
রাজনৈতিক পটভূমি ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাপস রায়ের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিন তৃণমূলের অন্দরে থাকা এই বর্ষীয়ান নেতা দলবদল করে আসার পর সাবেক দলের রীতিনীতি ও রণকৌশল সম্পর্কে ভালোভাবেই ওয়াকিবহাল। বিধানসভার প্রথম দিনেই তাঁর এই রণং দেহি মূর্তি প্রমাণ করে যে, আগামী দিনে আইনসভার ভেতরে ও বাইরে শাসক জোট তৃণমূলকে এতটুকুও রাজনৈতিক জমি ছাড়তে নারাজ। এই কড়া অবস্থানের ফলে রাজ্যে বিরোধী শিবিরের মনোবল যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনই আইনি ও প্রশাসনিক স্তরে পূর্বতন জমানার হিংসার ঘটনাগুলোর তদন্তপ্রক্রিয়া আরও গতি পেতে পারে, যা তৃণমূলের ওপর বাড়তি রাজনৈতিক চাপ তৈরি করবে।
উল্লেখ্য, নতুন বিধানসভার প্রথম অধিবেশনের এই আবহেই প্রোটেম স্পিকারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন তাপস রায়। বিধানসভার নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক রথীন্দ্র বসু। বিরোধীদের ঝাঁঝালো বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের অধিবেশন শেষ হওয়ার পর আগামী ১৮ জুন পরবর্তী অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে।