বাংলাতেও আসন পুনর্বিন্যাস, বিধানসভায় খোদ মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে তোলপাড়
অসমে যেভাবে বিধানসভা আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল, এবার কি সেই একই পথে হাঁটতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ? বিধানসভায় খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র গুঞ্জন। লোকসভা স্তরে দেশজুড়ে ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া নিয়ে জল্পনার মাঝেই এবার সরাসরি রাজ্য স্তরে এই পদক্ষেপের বড়সড় ইঙ্গিত মিলল খোদ প্রশাসনিক প্রধানের তরফে।
শুক্রবার বিধানসভায় নতুন স্পিকার নির্বাচনের পর বক্তব্য রাখার সময় মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দেন, আগামী দিনে এই বিধানসভা ভবনের বড়সড় সংস্কার, এমনকি নতুন ভবন তৈরির প্রয়োজন হতে পারে। এর কারণ হিসেবে তিনি আসন পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি উল্লেখ করেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, ডিলিমিটেশন হয়ে গেলে রাজ্যে বিধানসভার আসন সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে। আর সেই বাড়তি বিধায়কদের বসার জায়গার সংস্থান করতেই নতুন পরিকাঠামো গড়ে তোলার কথা ভাবছে রাজ্য সরকার।
আইনি পথ এবং রাজনৈতিক সমীকরণ
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আসন পুনর্বিন্যাস ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অন্যতম পুরনো রাজনৈতিক এজেন্ডা হলেও এ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের সংকল্প পত্রে এর সরাসরি উল্লেখ ছিল না। ফলে সরকারের মেয়াদের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এই প্রসঙ্গ উঠে আসা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আইনি নিয়ম অনুযায়ী, লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাসের জন্য সংসদের চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হলেও বিধানসভার ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি কিছুটা ভিন্ন। রাষ্ট্রপতির অনুমতি নিয়ে রাজ্য সরকার নিজস্ব কমিশন গঠন করতে পারে এবং সেই কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্ট বিধানসভায় পাশ করিয়ে নেওয়া যায়। বর্তমানে রাজ্যে ক্ষমতাসীন সরকারের হাতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এই সংক্রান্ত বিল বা প্রস্তাব পাশ করিয়ে নিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কোনো রাজনৈতিক বেগ পেতে হবে না বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
অসম মডেল ও সম্ভাব্য প্রভাব
মুখ্যমন্ত্রীর এই ইঙ্গিতের পর স্বাভাবিকভাবেই ২০২৩ সালে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার নেওয়া ডিলিমিটেশন মডেলের প্রসঙ্গ সামনে আসছে। অসমে আসন পুনর্বিন্যাসের পর সেখানকার নির্বাচনী সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তন এসেছিল। বিরোধীদের দাবি, ওই প্রক্রিয়ার ফলে অসমে সংখ্যালঘু ভোটারদের রাজনৈতিক প্রভাব বা নির্ণায়ক ভূমিকা পূর্বের ৩৫টি আসন থেকে কমে মাত্র ২২টি আসনে এসে ঠেকেছে। এর ফলে বিগত নির্বাচনে রাজ্যের বড় একটি অংশে বিরোধীরা আর তেমন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলায় ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া কার্যকর হলে রাজ্যের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক সীমানায় আমূল পরিবর্তন আসবে। বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রের জাতিগত ও ধর্মীয় ভোটব্যাঙ্কের চেনা সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে রাজ্যের আগামী নির্বাচনগুলোতে।