তিলজলায় আর ভাঙচুর নয় এখনই! কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে চাঞ্চল্য

কলকাতার তিলজলা এলাকায় বহুতল ভাঙার ক্ষেত্রে বড়সড় স্বস্তি পেল মালিকপক্ষ। আপাতত সেখানে কোনো ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ চালানো যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর একক বেঞ্চ এই মামলার শুনানিতে তিলজলার ওই বহুতলটি ভাঙার ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছেন। তবে আদালতের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, ইতোমধ্যে যে অংশটি ভাঙা হয়েছে, তার অবস্থা যদি বিপজ্জনক মনে হয়, তবে পুরসভা বাড়ির মালিকের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। সমগ্র প্রক্রিয়ায় পুলিশ ও পুরসভাকে আইন মেনে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অবৈধ নির্মাণ ও প্রশাসনের ক্ষোভ

মামলার শুনানির সময় কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী শহরের যত্রতত্র বেআইনি নির্মাণ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, বর্তমানে মাশরুমের বা ব্যাঙের ছাতার মতো অবৈধ নির্মাণ গজিয়ে উঠছে, যা যেকোনো সময় বড়সড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। শুনানিতে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট বহুতলটির কোনো বৈধ স্যাংশন প্ল্যান বা অনুমোদিত নকশা দেখাতে পারেনি মালিকপক্ষ। একই সঙ্গে ওই ভবনে কী ধরনের ব্যবসা বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানো হতো, সেই সংক্রান্ত কোনো বৈধ নথিও তারা আদালতে পেশ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আপাতত ওই ভবনে কোনো রকম ব্যবসা চালানো যাবে না।

অভিযোগ ও পালটা অভিযোগের লড়াই

আদালতে শুনানির সময় দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ তৈরি হয়। বাড়ির মালিকের দাবি, পুরসভার নির্দিষ্ট আইন না মেনেই আচমকা তাঁর বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এমনকি পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনে তিনি জানান, বাড়ি ভাঙার পর তাঁকে থানায় ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক লিখিয়ে নেওয়া হয়েছে যে ভাঙার নোটিস আগেই দেওয়া হয়েছিল। কোনো সরকারি দপ্তর এই উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে, তাও তাঁকে জানানো হয়নি। বিদ্যুৎ ও জলের সংযোগ ফেরানোর জন্য তিনি আদালতের কাছে আবেদন জানান।

অন্যদিকে, রাজ্যের তরফে বাড়ির মালিকের এই সমস্ত দাবি সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি আইনজীবীর পাল্টা যুক্তি, ওই বহুতলে কারখানা চালানোর ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম মানা হয়নি। সেখানে কোনো ফায়ার লাইসেন্স ছিল না এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কোনো ছাড়পত্রও নেওয়া হয়নি। নোটিস না দেওয়ার অভিযোগ উড়িয়ে রাজ্য জানায়, নিয়ম মেনেই নোটিস পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু মালিকপক্ষ তা গ্রহণ না করায় দেওয়ালে সেটি সেঁটে দেওয়া হয়।

আগামী দিনে সম্ভাব্য প্রভাব

হাই কোর্টের এই স্থগিতাদেশের ফলে আপাতত তিলজলার ওই বিতর্কিত বহুতলে বুলডোজার চালানো বন্ধ থাকবে। তবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়ায় এবং জল-বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো ইতিবাচক নির্দেশ না আসায় ভবনটির ভবিষ্যৎ নিয়ে জটিলতা কাটেনি। এই স্থগিতাদেশের ফলে কলকাতা পুরসভা এবং পুলিশ প্রশাসনকে যেকোনো বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও বেশি আইনানুগ ও সতর্ক হতে হবে। আগামী ২২ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষের নথিপত্র খতিয়ে দেখে আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *