কলকাতায় পাঁচ মাসের শিশুকন্যাকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ, ডাস্টবিন থেকে দেহ উদ্ধারে মরিয়া পুলিশ

কলকাতার খাস ময়দান থানা এলাকায় নিজের পাঁচ মাসের শিশুকন্যাকে পিটিয়ে খুন করার এক রোমহর্ষক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এই নৃশংস কাণ্ডে অভিযুক্ত বাবাকে ইতিমিধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটিকে নির্মমভাবে মারধর করে হত্যা করার পর তার দেহ জওহরলাল নেহরু রোডের ধারের একটি ডাস্টবিনে ফেলে দেয়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা ময়দান এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেছে।

গোলযোগ থেকে রহস্যের উন্মোচন

শুক্রবার ব্রিগেডের অদূরে একটি শিব মন্দিরের কাছে কিছু যুবককে আড্ডা দেওয়ার সময় এক তরুণীকে কাঁদতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কাজল জানা নামের ওই তরুণী জানান, গত রবিবার তাঁর স্বামী দেবজিৎ জানা ওরফে পিকলু তাঁদের পাঁচ মাসের কন্যাসন্তানকে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বসে পিটিয়ে হত্যা করেছে। এরপরই ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত দেবজিৎকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুবককে হেফাজতে নেয় এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করে।

তদন্তে জটিলতা ও পুরসভার গাড়ির খোঁজ

মামলাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ অভিযুক্তকে সঙ্গে নিয়ে নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে তল্লাশি চালালেও এখনও পর্যন্ত শিশুর দেহটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় তদন্তকারীরা কিছুটা জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন, কারণ মৃত শিশুর মা মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত এবং তাঁর কথাবার্তায় বেশ অসংলগ্নতা রয়েছে। তবে পুলিশি তৎপরতা থেমে নেই। ঘটনার রাতে অভিযুক্তের পরনে থাকা পোশাক ইতিমধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি, সোমবার ওই ডাস্টবিনের ময়লা পরিষ্কার করতে পুরসভার যে গাড়িটি এসেছিল, সেটিকেও শনাক্ত করেছে পুলিশ। এখন সেই গাড়ির সূত্র ধরেই দেহটি খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

পারিবারিক কলহ ও নির্মমতার প্রভাব

প্রাথমিক অনুমান, পারিবারিক চরম বিবাদ বা মানসিক বিকৃতির জেরেই এমন মর্মান্তিক ও অমানবিক ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। প্রকাশ্য দিবালোকে কলকাতার হৃদপিণ্ড বলে পরিচিত ব্রিগেড এলাকায় এই ধরনের অপরাধ শহরের নিরাপত্তা ও সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্রটিকে আরও একবার সামনে এনে দিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে এবং নিঁখুত তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করতে পুলিশ এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ধৃত দেবজিৎ ও তার স্ত্রীকে লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ করছে। স্থানীয় এক বাসিন্দার অভিযোগের ভিত্তিতে খুন এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাটের নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *