চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিরল ঘটনা! ৫ দিনের ব্যবধানে চার সন্তানের জন্ম দিয়ে নজির গড়লেন আমিনার
উত্তরপ্রদেশের সম্ভল জেলার ৩১ বছর বয়সী আমিনা নামের এক নারী মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে চার সন্তানের জন্ম দিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মোরাদাবাদের তীর্থঙ্কর মহাবীর বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে অত্যন্ত জটিল ও উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জন্ম দেন। সাধারণত একসঙ্গে একাধিক সন্তান জন্ম নেওয়ার ঘটনা ঘটলেও, এত দিনের ব্যবধানে এবং স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চার শিশুর জন্ম হওয়া চিকিৎসকদের মতে অত্যন্ত বিরল।
বিরল প্রসবের কারণ ও চিকিৎসকদের কৌশল
চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, আমিনার গর্ভাবস্থার শুরুতেই আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে চারটি ভ্রূণের উপস্থিতি ধরা পড়েছিল। চারটি শিশুই জরায়ুর ভেতরে আলাদা আলাদা থলিতে অবস্থান করছিল, যা এই ঘটনাটিকে আরও ব্যতিক্রমী করে তোলে। গত ৮ মে আমিনার প্রথম প্রসব বেদনা শুরু হলে ৯ মে তিনি ৭১০ গ্রাম ওজনের একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। যেহেতু তখন গর্ভাবস্থার পূর্ণ সময় হয়নি, তাই বাকি শিশুদের নিরাপদ রাখতে চিকিৎসকরা কৃত্রিম উপায়ে মায়ের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করেন এবং প্রসব প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে পিছিয়ে দেন। পরবর্তীতে ১৪ মে পুনরায় প্রসব বেদনা উঠলে তিনি আরও এক পুত্র ও দুই কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।
ঝুঁকি ও বর্তমান পরিস্থিতি
এই গর্ভাবস্থাটি শুরু থেকেই উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বা ‘হাই-রিস্ক প্রেগন্যান্সি’ হিসেবে চিহ্নিত ছিল। গর্ভাবস্থার পুরো সময়জুড়ে আমিনা উচ্চ রক্তচাপ ও যকৃতের জটিল সমস্যায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকরা শুরুতে শিশুদের নিরাপত্তার স্বার্থে ‘ফিটাল রিডাকশন’ বা ভ্রূণ কমানোর পরামর্শ দিলেও পরিবার সবকটি সন্তানই রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
বর্তমানে মা এবং চার নবজাতকই চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং তাদের শারীরিক অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। নবজাতকদের মধ্যে একজন সম্পূর্ণ সুস্থ থাকলেও বাকিদের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকদের নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ, সঠিক সময়ে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রয়োগ এবং পরিবারের দৃঢ় মানসিক সহযোগিতার ফলেই এই জটিল পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং দক্ষ চিকিৎসকদের সমন্বিত প্রচেষ্টার এক অনন্য নজির হয়ে থাকবে এই ঘটনা।