প্রধানমন্ত্রী মোদীর উপদেষ্টাই কি বাংলার নতুন অর্থমন্ত্রী, নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা

একুশ শতকের বাংলায় এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে গিয়েছে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—উভয় আসনেই বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে নিয়ম মেনে একটি আসন ছেড়ে দেওয়ার বাধ্যবাধকতায় তিনি ভবানীপুরকে নিজের কাছে রেখে ঐতিহ্যবাহী নন্দীগ্রাম আসনটি ত্যাগ করেছেন। এরপরই রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে, টানা ১০ বছর শুভেন্দু অধিকারীর দখলে থাকা এই হাইপ্রোফাইল আসনে পদ্ম শিবিরের প্রার্থী কে হতে চলেছেন। বিজেপির অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে মূলত দুটি নাম উঠে আসছে—এক, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের (EAC-PM) সদস্য সঞ্জীব সান্যাল এবং দুই, শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী এজেন্ট মেঘনাদ সাহা। তবে রাজনৈতিক সমীকরণে সঞ্জীব সান্যালই এই দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

অর্থনীতির হাল ধরতে মোদীর ‘মেনটর’

বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই অর্থ, স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। নবগঠিত বিজেপি সরকারে এই মুহূর্তে অর্থনীতিতে গভীর পাণ্ডিত্য রয়েছে এমন বিধায়কের অভাব একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই শূন্যতা পূরণে এবং রাজ্যের ভেঙে পড়া আর্থিক কাঠামো পুনর্গঠনে দেশের অন্যতম শীর্ষ অর্থনীতিবিদ সঞ্জীব সান্যালকে নন্দীগ্রাম থেকে জিতিয়ে এনে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী করার পরিকল্পনা করছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। আমলা বা বিশেষজ্ঞদের সরাসরি রাজনীতিতে এনে বড় দায়িত্ব দেওয়ার কৌশল মোদী সরকারের জন্য নতুন কিছু নয়; বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর কিংবা হরদীপ সিং পুরী এর উজ্জ্বল উদাহরণ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে সঞ্জীব সান্যালের সস্ত্রীক উপস্থিতি এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বাংলার অর্থনীতি নিয়ে তাঁর একের পর এক বিশ্লেষণাত্মক সাক্ষাৎকার এই জল্পনাকে আরও জোরালো করে তুলেছে।

চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলার অর্থনীতি

যিনিই বাংলার পরবর্তী অর্থমন্ত্রী হোন না কেন, তাঁর সামনে অপেক্ষা করছে এক বিশাল অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৬০-৬১ সালে দেশের জিডিপিতে বাংলার অবদান যেখানে ছিল ১০.৫ শতাংশ, ২০২৩-২৪ সালে তা আশঙ্কাজনকভাবে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫.৬ শতাংশে। একসময়ের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির রাজ্যটি এখন ২৪তম স্থানে নেমে গেছে। জাতীয় গড়ের ১২৭.৫ শতাংশ থাকা মাথাপিছু আয় বর্তমানে নেমে এসেছে মাত্র ৮০ শতাংশে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজ্যের ঘাড়ে চেপে থাকা ৭.৭ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিপুল ঋণের বোঝা। অর্থনীতিবিদ ও বিপ্লবী স্বাধীনতা সংগ্রামী শচীন্দ্রনাথ সান্যালের প্রপৌত্র সঞ্জীব সান্যাল তাঁর বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা ও বাঙালি শিকড়ের মেলবন্ধনে এই হারানো গৌরব ও ভগ্নপ্রায় অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে পারেন কি না, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *