দলের ‘তৃণমূলীকরণ’ রুখতে কড়া বিজেপি, শৃঙ্খলাভঙ্গে বিধায়কদেরও বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি!
বাংলায় বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রথমবার সরকার গঠনের পরই দলের অন্দরে কড়া শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোমর বেঁধে নামল বিজেপি। সরকার গড়ার উচ্ছ্বাসের মাঝেই দলের কোনো নেতা-কর্মীর বেসামাল আচরণ যে বরদাস্ত করা হবে না, তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার নিউটাউনের একটি হোটেলে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের দলীয় বৈঠকে এই বিষয়ে একাধিক কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় বিজেপি নেতৃত্ব। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তীসহ জেলা সভাপতি ও ইনচার্জরা।
সিন্ডিকেট ও তোলাবাজি রুখতে কড়া বার্তা
দলের ভাবমূর্তি বজায় রাখতে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি গঠন করেছে বিজেপি। এই কমিটি এখন থেকে প্রত্যেক নেতা-কর্মী ও সদ্য বিজয়ী বিধায়কদের গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখবে। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট, তোলাবাজি কিংবা টোটো ও অটোর দখলদারি বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে বিরোধী দলের কার্যালয় দখল করার সংস্কৃতির ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দলবিরোধী কোনো আচরণ বা এই ধরনের কোনো অভিযোগ সামনে এলে অভিযুক্তকে সরাসরি দল থেকে বহিষ্কারের মতো কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
দলের ‘তৃণমূলীকরণ’ ও দলবদলে নিষেধাজ্ঞা
বিজেপি নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য দলের ‘তৃণমূলীকরণ’ আটকানো। নির্বাচনের পর তৃণমূলের বহু নেতাকর্মী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আপাতত অন্য কোনো দল থেকে কাউকে নেওয়া যাবে না। এই নির্দেশ অমান্য করলে বিধায়কদেরও রেয়াত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বিধায়কদের জনসংযোগ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, তাঁদের গ্রামে গ্রামে গিয়ে স্থানীয় মানুষকে ধন্যবাদ জানাতে হবে।
একক সিদ্ধান্তে কোপ ও নতুন কোর কমিটি
দলের রাশ শক্ত করতে এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ঘটাতে জেলা সভাপতিদের একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতায় রাশ টেনেছেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল। তিনি জানিয়েছেন, উন্নয়নের কাজসহ কোনো সিদ্ধান্তই একা নেওয়া যাবে না। আগামী ২৫ মে-র মধ্যে ১৫ জনের একটি করে কোর কমিটি গঠন করতে হবে এবং সেই কমিটির সঙ্গে একজোট হয়েই সমস্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ এবং দলের ভেতর স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই সরকার গঠনের শুরুতেই এই নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিল গেরুয়া শিবির।