আক্রান্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে এবার তৃণমূলের নতুন হেল্পলাইন নম্বর!
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক অশান্তির অভিযোগ উঠছে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের আক্রান্ত ও ঘরছাড়া কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে এবং তাঁদের আইনি ও প্রশাসনিক সাহায্য পৌঁছে দিতে এবার বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর চালু করল রাজ্যের প্রাক্তন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোট পরবর্তী হিংসার শিকার, হুমকি পাওয়া কিংবা ঘরছাড়া কর্মীরা সরাসরি এই নম্বরে যোগাযোগ করে সাহায্য চাইতে পারবেন।
তৃণমূলের পাল্টা চাপ ও তথ্য অনুসন্ধানকারী দল
রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক দলীয় বৈঠক থেকে সরব হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচনের পর বিভিন্ন জায়গায় দলের কর্মীদের হত্যা, মারধর এবং ঘরছাড়া করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় এবং বাস্তব চিত্র খতিয়ে দেখতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে তিনটি বিশেষ ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম’ বা তথ্য অনুসন্ধানকারী দল গঠন করা হয়েছে। এই দলগুলি বিভিন্ন জেলায় গিয়ে সরাসরি আক্রান্তদের বাড়ি পরিদর্শন করবে এবং বিজেপির হাতে নিগৃহীত ও নিহত কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে একটি সামগ্রিক রিপোর্ট তৈরি করবে।
আদালতের কড়া নির্দেশ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
গত ১২ মে তৃণমূলের পক্ষে আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের করেন, যেখানে বৃহস্পতিবার স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অংশ নিয়ে নিজের বক্তব্য পেশ করেন। মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, অশান্তির জেরে যাঁদের বাড়ি-দোকান ভাঙচুর হয়েছে কিংবা যাঁরা ঘরছাড়া হয়েছেন, তাঁদের নিরাপত্তা দিয়ে দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে পুলিশকেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আইনি পদক্ষেপ ও হেল্পলাইন চালুর মাধ্যমে তৃণমূল মূলত দুটি লক্ষ্য অর্জন করতে চাইছে। প্রথমত, নির্বাচনের পর বিপর্যস্ত দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করা এবং দ্বিতীয়ত, আদালতের রায়কে হাতিয়ার করে বর্তমান শাসক দল ও পুলিশ প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া যে রাষ্ট্রের প্রাথমিক কর্তব্য, আদালতের এই মন্তব্যের পর পুলিশ প্রশাসনকে এখন আরও বেশি সক্রিয় হতে হবে। আগামী তিন সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।