ভরাডুবির ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া লড়াই, দল ছাড়ার জল্পনায় কড়া বার্তা মমতার

সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে অভাবনীয় বিপর্যয়ের পর এবার সংগঠনকে নতুন করে সাজাতে কোমর বাঁধছে তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই দলের অন্দরে যখন ক্ষোভ এবং দলবদল নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই কড়া অবস্থান নিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার কালীঘাটের বাসভবনে বিধানসভা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে নেত্রী সাফ জানিয়ে দিলেন, যাঁরা দল ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে চান, তাঁরা স্বচ্ছন্দে যেতে পারেন। কাউকে জোর করে ধরে রাখা হবে না। এদিনের বৈঠকে মমতার পাশেই উপস্থিত ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের ফল কার্যত তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় মাত্র ৮০টি আসনে জয়ী হয়েছে তৃণমূল, আর ২১১ জন প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁর খাসতালুক ভবানীপুরে পরাজিত হওয়ায় শাসক বেঞ্চ থেকে সরতে হয়েছে ঘাসফুল শিবিরকে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েও দমে যেতে নারাজ নেত্রী পুরনো ক্ষত ভুলে নতুন করে সংগঠন গড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ভাঙচুর হওয়া দলীয় কার্যালয়গুলো সংস্কারের ডাক দিয়ে তিনি জানান, প্রয়োজনে তিনি নিজে গিয়ে রঙ করে আসবেন। মানুষের রায় ‘লুট’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করলেও তৃণমূল কখনও মাথা নত করবে না বলে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন।

দলবদল নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান ও কারণ

ভোটের এই ঐতিহাসিক পরাজয়ের পেছনে দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা, হেভিওয়েট নেতা ও মন্ত্রীদের পরাজয় এবং জনমত হারানোর মতো একাধিক কারণ উঠে আসছে। বিপর্যয়ের এই আবহে দলের একাংশের মধ্যে তৈরি হওয়া ক্ষোভ ও দলবদল ঠেকাতে আগেভাগেই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন নেত্রী। তৃণমূলকে একটি পরিবারের সঙ্গে তুলনা করে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কোনও বাধ্যবাধকতার কারণে কেউ দল ছাড়তে চাইলে তিনি বাধা দেবেন না। তবে যাঁরা এই কঠিন সময়ে লড়াই করেছেন, তাঁদের সাহস জুগিয়ে সত্যের জয় হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

সংগঠন পুনর্গঠনের ব্লু-প্রিন্ট ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভার এই ভরাডুবির পর তৃণমূল এখন থেকেই সংগঠনকে তলানি থেকে টেনে তোলার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছে। দল যে এখনই ময়দান ছাড়ছে না, কালীঘাটের বৈঠক থেকে মূলত সেই বার্তাই দিতে চাইলেন মমতা-অভিষেক। দলের এক্স হ্যান্ডল থেকেও লড়াই করা প্রার্থীদের ‘সাহসী যোদ্ধা’ হিসেবে সম্মান জানানো হয়েছে। এই রণকৌশলের ফলে আগামী দিনে দলের নিচু তলার কর্মীদের আত্মবিশ্বাস যেমন ফিরতে পারে, তেমনই সুযোগসন্ধানী নেতাদের ছেঁটে ফেলে আরও নিটোল ও অনুগত এক ঝাঁক নেতৃত্বকে সামনে নিয়ে আসতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *