স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হুমকি ও উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগ, আইনি বিপাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের রাজনৈতিক উত্তাপ থিতিয়ে আসতেই এক নজিরবিহীন আইনি মোড় নিলো বাংলার রাজনীতি। নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চ থেকে উস্কানিমূলক মন্তব্য এবং দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) রুজু করেছে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ। রাজ্য পুলিশের ইতিহাসে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে এমন কড়া আইনি পদক্ষেপ সম্ভবত এই প্রথম, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
অভিযোগের সূত্রপাত ও ডিজিটাল প্রমাণ
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজীব সরকার নামে এক সমাজকর্মীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ৫ মে, অর্থাৎ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ঠিক পরের দিনই কলকাতার বাগুইআটি থানায় প্রথম লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেছিলেন ওই সমাজকর্মী। তাঁর অভিযোগ, ভোট চলাকালীন বিভিন্ন নির্বাচনী জনসভা থেকে একের পর এক বিতর্কিত ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের এই দাবির সপক্ষে অভিষেকের বেশ কিছু বিতর্কিত বক্তৃতার ভিডিও ফুটেজ এবং ডিজিটাল লিঙ্ক পুলিশের হাতে প্রমাণ হিসেবে তুলে দিয়েছেন ওই সমাজকর্মী। প্রাথমিক তদন্ত ও অভিযোগের গুরুত্ব খতিয়ে দেখে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ মামলাটি রুজু করার সিদ্ধান্ত নেয়।
আইনি জটিলতা ও সম্ভাব্য প্রভাব
তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর তিনটি ধারা এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের দুটি ধারা সহ মোট ৫টি ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ধারাগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি জামিন অযোগ্য (Non-bailable) হওয়ায় তৃণমূল সাংসদের আইনি জটিলতা বাড়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর যখন নতুন সরকার গঠনের তোড়জোড় এবং রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের খেলা চলছে, ঠিক সেই আবহেই রাজ্য পুলিশের এই অতি-সক্রিয়তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে এই এফআইআর প্রসঙ্গে জোড়াফুল শিবিরের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক বা আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।