সাড়ে ৯ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরা শেষে ইডি দফতর থেকে বেরোলেন রথীন ঘোষ!
পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) মুখোমুখি হলেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ। শুক্রবার কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে দীর্ঘ সাড়ে ৯ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশেষে দফতর থেকে বের হন তিনি। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্বভাবতই কিছুটা সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া দেন এই বর্ষীয়ান নেতা। তিনি জানান, ভিতরে কী কথাবার্তা হয়েছে তা তিনি খোলসা করবেন না, তবে তদন্তকারীদের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর তিনি দিয়েছেন।
এর আগে পাঁচ বার নানা অজুহাতে ইডি-র হাজিরা এড়িয়েছিলেন রথীন ঘোষ। কখনো ভোটের ব্যস্ততা, আবার কখনো বাথরুমে পড়ে গিয়ে মাথায় চোট পাওয়ার কারণ দর্শিয়েছিলেন তিনি। তবে প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু গ্রেফতার হওয়ার পরপরই রথীনের এই হাজিরা রাজ্য রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
পুর নিয়োগের নেপথ্যে দুর্নীতির জাল
তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন পুরসভায়, বিশেষ করে দক্ষিণ দমদম এবং মধ্যমগ্রাম পুরসভায় কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও অযোগ্য প্রার্থীদের টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই মামলার অন্যতম মূল অভিযুক্ত অয়ন শীলকে জেরা করে এবং তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া নথির ভিত্তিতেই রথীন ঘোষ ও সুজিত বসুর মতো হেভিওয়েট নেতাদের নাম সামনে আসে। দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন উপ-পৌরপ্রধান হিসেবে থাকাকালীন সময়ের নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং মধ্যমগ্রাম পুরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালীন তাঁর মেয়াদের নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য জানতেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা রথীন ঘোষকে তলব করেছিলেন।
তদন্তের প্রভাব ও রাজনৈতিক মহলে কড়া বার্তা
প্রাক্তন মন্ত্রীদের ওপর কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই ক্রমাগত চাপ রাজ্যের শাসক দলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়িয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী শিবির বিজেপি এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে দুর্নীতির অভিযোগে সুর চড়াচ্ছে। একই সাথে বিজেপির অন্দরেও তৈরি হয়েছে এক কড়া অনুশাসন। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, দলের কোনো বিধায়ক বা নেতার বেসামাল আচরণ বরদাস্ত করা হবে না। নবনির্বাচিত বিধায়কদের গতিবিধির ওপর শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি কড়া নজর রাখছে এবং দলবিরোধী কাজের প্রমাণ মিললে যেকোনো মুহূর্তে বহিষ্কারের খাঁড়া নেমে আসতে পারে। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার এই তদন্ত আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।