দলবিরোধী আচরণ করলে নেমে আসবে বহিষ্কারের খাঁড়া, শৃঙ্খলারক্ষা নিশ্চিত করতে কড়া বার্তা বঙ্গ বিজেপির!
রাজ্যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রথমবার সরকার গঠনের পরপরই দলের অন্দরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থান নিল বিজেপি। কোনও নেতা, কর্মী বা সদ্য বিজয়ী বিধায়কের বেসামাল আচরণ যে বরদাস্ত করা হবে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। শুক্রবার নিউটাউনের একটি হোটেলে আয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ দলীয় বৈঠকে দলবিরোধী কাজের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনে বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকের গতিবিধির ওপর কড়া নজরদারি চালাতে সক্রিয় থাকবে দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি।
সিন্ডিকেট-তোলাবাজি রুখতে কড়া দাওয়াই
বৈঠকে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে কোনও ধরনের সিন্ডিকেট বা তোলাবাজি চলবে না। টোটো কিংবা অটো স্ট্যান্ডের দখলদারি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি বিরোধী দলের কার্যালয় দখল করার মতো ঘটনা থেকেও নেতা-কর্মীদের দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ এবং দলের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ রাখতেই এই কড়া পদক্ষেপ। এর পাশাপাশি দলের ‘তৃণমূলীকরণ’ রুখতে কড়া বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে অন্য দল থেকে আসা কাউকে বিজেপিতে নেওয়া যাবে না। এই নিয়ম অমান্য করলে বিধায়কদেরও রেয়াত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিধায়কদের গ্রামে গ্রামে গিয়ে জনসংযোগ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্য সভাপতি।
একক সিদ্ধান্তে কোপ ও কোর কমিটির নজরদারি
দলের রাশ শক্ত করতে জেলা সভাপতিদের এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সংকুচিত করা হচ্ছে। বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল স্পষ্ট জানিয়েছেন, উন্নয়নমূলক কাজসহ কোনও বিষয়েই একা সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রতিটি জেলায় ১৫ জনের একটি করে কোর কমিটি গঠন করা হবে এবং সমস্ত সিদ্ধান্ত এই কমিটির মাধ্যমেই সম্মিলিতভাবে নিতে হবে। বৈঠকে সুনীল বনশল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তীসহ জেলা সভাপতি ও জেলা ইনচার্জরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার গঠনের প্রাথমিক উল্লাস যাতে দলের অন্দরে বিশৃঙ্খলা বা অহংকারের জন্ম না দেয়, সেই কারণেই এই আগাম সতর্কবার্তা। তৃণমূল স্তরে জনমানসে দলের গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখতে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রুখতেই কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব এই সাংগঠনিক কঠোরতার পথ বেছে নিয়েছে।