অভিষেকের বিরুদ্ধে সাইবার থানায় এফআইআর, অবশেষে মুখ খুললেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময়টা একেবারেই ভালো যাচ্ছে না। এবার সরাসরি আইনি জটিলতায় জড়ালেন শাসকদলের এই শীর্ষ নেতা। উস্কানিমূলক মন্তব্য ও দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হুমকির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ। এই হাইপ্রোফাইল ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।

বদলানো পরিস্থিতিতে মানুষের ভয় কেটেছে

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের ঘটনা সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এই বিষয়ে মুখ খুলে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে আক্রমণ করেছেন। তাঁর মতে, এতদিন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের অন্যান্য নেতারা সাধারণ মানুষের ওপর প্রচুর অত্যাচার এবং অনাচার চালিয়েছেন। কিন্তু এতদিন মানুষ চরম ভয়ের কারণে কোনো অভিযোগ করতে সাহস পাননি। বর্তমান পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার কারণেই মানুষ এখন ভয় সরিয়ে রেখে পুলিশে অভিযোগ জানাতে পারছেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, পূর্বে পুলিশ অভিযোগ না নিলেও এখন পুলিশ ও সাধারণ জনতা উভয়ই প্রস্তুত রয়েছে এবং অন্যায়কারীদের শাস্তি নিশ্চিত করে সবাইকে ন্যায় দেওয়া হবে।

অভিযোগের কারণ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

সমাজকর্মী রাজীব সরকারের দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ এই পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযোগকারী জানিয়েছেন, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার মঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একের পর এক বিতর্কিত ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন এবং সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে হুমকি দিয়েছেন। নিজের দাবির সপক্ষে ডিজিটাল লিঙ্ক এবং ভিডিও ফুটেজও পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন ওই সমাজকর্মী।

পুলিশ সূত্রে খবর, অভিষেকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের মোট ৫টি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি ধারা জামিন অযোগ্য। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জামিন অযোগ্য ধারাগুলির কারণে আগামী দিনে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ডের রাজনৈতিক ও আইনি অস্বস্তি অনেকটাই বাড়তে পারে। নির্বাচনের পর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *