অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির দাবি, বিস্ফোরক অভিযোগে সাইবার ক্রাইমে FIR

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম থানায় FIR দায়েরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। অভিযোগকারী তথা সমাজকর্মী রাজীব সরকার তৃণমূল সাংসদের তীব্র সমালোচনা করে তাঁর গ্রেফতারির দাবি জানিয়েছেন। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এই ধরনের মন্তব্য আশা করা যায় না উল্লেখ করে বিষয়টিকে অসাংবিধানিক এবং অপরাধের শামিল বলে দাবি করেছেন তিনি।
কী সেই বিস্ফোরক অভিযোগ?
অভিযোগকারী রাজীব সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ‘দেখে নেব’ বলে মন্তব্য করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজীব বাবুর দাবি, এটি কোনো সুস্থ রাজনৈতিক ভাষা নয়, বরং সম্পূর্ণ ‘গুন্ডার ভাষা’। এই উস্কানিমূলক মন্তব্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হুমকির পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ সহ সাইবার ক্রাইম পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই ঘটনার পেছনে বড়সড় কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে এবং আদালতে সমস্ত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলেও তিনি জানান।
আইনি জটিলতা ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রাথমিক তদন্ত ও অভিযোগের গুরুত্ব খতিয়ে দেখে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর তিনটি ধারা এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের দুটি ধারা সহ মোট পাঁচটি ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ধারাগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি জামিন অযোগ্য (Non-bailable) হওয়ায় রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি আইনি মহ সড়গড় হয়ে উঠেছে। এই ঘটনার জেরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর এবং আইনি জটিলতা আরও তীব্র হওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।