জ্বালানির দামে চরম অস্বস্তি, আগামী কয়েক সপ্তাহে আকাশ ছুঁতে পারে পেট্রোল-ডিজেল!

এক ধাক্কায় লিটারে ৩ টাকা বেড়েছে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। তবে আমজনতার পকেট পুড়িয়ে শুরু হওয়া এই মূল্যবৃদ্ধি এখানেই থামছে না, বরং আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে আগামী ৩ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে দেশের বাজারে জ্বালানির দাম আকাশ ছুঁতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের রেকর্ড লাফ

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানির এই অগ্নিমূল্য হওয়ার প্রধান কারণ আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্য তথা পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে অপরিশোধিত তেলের দামে। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলারে পৌঁছে গিয়েছে। এই দাম যদি ৯০ থেকে ১০০ ডলারের ওপরেই ঘোরাফেরা করে, তবে আগামী ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে দেশের বাজারে পেট্রোল ও ডিজেল আরও মহার্ঘ হয়ে উঠবে।

লিটারে আরও ১০ টাকা বাড়ার আশঙ্কা ও প্রভাব

ভারত তার প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে বিশ্ব বাজারের সামান্য ওঠানামাতেও দেশের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়ে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ধাভাল পোপাটের মতে, বর্তমানে যে ৩ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছে, তা রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির দীর্ঘদিনের ক্ষতি আংশিক সামাল দিতে পারলেও তা পর্যাপ্ত নয়।

হিসাব অনুযায়ী, লিটারে ১ টাকা দাম বাড়লে তেল সংস্থাগুলির বার্ষিক আয় বা ইবিআইটিডিএ (EBITDA) প্রায় ১৫,০০০ থেকে ১৬,০০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পায়। সেই অনুযায়ী ৩ টাকা বৃদ্ধিতে প্রায় ৪৫,০০০ থেকে ৪৮,০০০ কোটি টাকা রাজস্ব বাড়লেও বিশ্ব বাজারের বর্তমান যা পরিস্থিতি, তাতে তেল সংস্থাগুলির লোকসান পুরোপুরি তুলতে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আগামী দিনে লিটার প্রতি আরও ১০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হতে পারে। দীর্ঘ চার বছর পর দেশে তেলের দাম বাড়ায় একদিকে যেমন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির ক্ষতি কমানোর চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে তেমনই এর জেরে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর পরিবহণ খরচ এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *