দেশজুড়ে পেট্রোপণ্যের চরম হাহাকারের মাঝেই শুল্কের অঙ্কে বড় রদবদল করল কেন্দ্রীয় সরকার

অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রল এবং ডিজেলের তীব্র সংকটের মাঝেই এক চাঞ্চল্যকর পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। দেশের বাজারে যখন জ্বালানি তেলের জোগান নিয়ে নানাবিধ গুজব ও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, ঠিক তখনই ডিজেল এবং বিমানের জ্বালানির (এটিএফ) রপ্তানি শুল্ক এক ধাক্কায় অনেকটাই কমিয়ে দিল অর্থ মন্ত্রক। তবে একই সঙ্গে বৃদ্ধি করা হয়েছে পেট্রলের রপ্তানি শুল্ক। শনিবার থেকেই এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে বলে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

শুল্কের নতুন খতিয়ান

অর্থ মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ডিজেলে রপ্তানি শুল্ক প্রতি লিটারে ২৩ টাকা থেকে কমিয়ে ১৬.৫ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে বিমান জ্বালানির ক্ষেত্রেও রপ্তানি শুল্ক প্রতি লিটারে ৩৩ টাকা থেকে কমিয়ে এক ধাক্কায় ১৬ টাকা করা হয়েছে। অপরদিকে, লিটারপ্রতি পেট্রলের রপ্তানি শুল্ক ৩ টাকা বাড়িয়ে ১৬.৫ টাকা ধার্য করেছে কেন্দ্র।

ভোক্তাদের পকেটে টান ও সংকটের কারণ

ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির জেরে ভারতের বাজারেও শুক্রবার থেকে পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। কলকাতায় পেট্রলের নতুন দাম লিটারপিছু ১০৮.৭৪ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৯৫.১৩ টাকায় পৌঁছে গিয়েছে। এর পাশাপাশি সিএনজির দামও প্রতি কেজিতে ২ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সিদ্ধান্তের নেপথ্যে সরকারের যুক্তি ও সম্ভাব্য প্রভাব

দেশের ভেতরে যখন পেট্রোলিয়াম সংকট চলছে, তখন ডিজেল ও বিমান জ্বালানির রপ্তানি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শুল্ক কমানোর ফলে দেশের বাজারে জ্বালানি ধরে রাখার চেয়ে তা বিদেশে রপ্তানি করার প্রবণতা আরও বাড়তে পারে, যা অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও তীব্র করে তোলার আশঙ্কা তৈরি করছে।

যদিও সরকারি সূত্রের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণে দেশের ধুঁকতে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি বিপুল লোকসানের মুখোমুখি হচ্ছিল। সেই লোকসান সামাল দিতে এবং তেল সংস্থাগুলিকে কিছুটা আর্থিক স্বস্তি জোগাতেই এই কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *