ফাঁদে পা দিলেই সর্বস্বান্ত, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ভুয়ো ওয়েবসাইট নিয়ে তোলপাড় পুরুলিয়া!

রাজ্যে নতুন সরকারি প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ চালুর ঘোষণা হতেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে সাইবার প্রতারকদের একটি বড় চক্র। এই প্রকল্পের নাম করে তৈরি করা হয়েছে ভুয়ো ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। গত কয়েকদিনে পুরুলিয়া ও তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে একাধিক ভুয়া লিঙ্ক এবং মেসেজ পাঠিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার জালে ফেলার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত হওয়া থেকে বাঁচাতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সতর্কতা প্রচার শুরু করা হয়েছে।

প্রতারণার নিত্যনতুন কৌশল

সাইবার অপরাধীরা মূলত মানুষের কৌতূহল এবং সরলতাকে পুঁজি করে তিনটি ভিন্ন উপায়ে ফাঁদ পাতছে। প্রথমত, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের খুশিতে নিখরচায় মোবাইল রিচার্জের লোভনীয় অফার দেওয়া হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের অনলাইন আবেদন পদ্ধতি ও যোগ্যতার তালিকা জানার নাম করে একটি ভুয়া লিঙ্ক পাঠানো হচ্ছে। তৃতীয়ত, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অজুহাতে গাড়ির নম্বর উল্লেখ করে ভুয়া জরিমানার মেসেজ পাঠানো হচ্ছে, যা এমনকি পুলিশ কর্মীদের মোবাইলেও এসেছে। এই সমস্ত মেসেজের সঙ্গে থাকা নীল রঙের লিঙ্কে ক্লিক করলেই গ্রাহকদের সমস্ত গোপন তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকরা।

ব্যক্তিগত তথ্য চুরির আশঙ্কা ও পুলিশের বার্তা

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে এখনও কোনো বিশদ সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি না হলেও, অনলাইনের এই ভুয়া লিঙ্কে ক্লিক করার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবহারকারীর অজান্তে ফোনের নিয়ন্ত্রণ চলে যাচ্ছে হ্যাকারদের হাতে। পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার বৈভব তেওয়ারি জানিয়েছেন যে, এই ধরনের ভুয়া অ্যাপ বা লিঙ্কের মাধ্যমে নাগরিকদের আধার কার্ড, প্যান কার্ডের মতো অতি সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য সাইবার অপরাধীদের কাছে চলে যেতে পারে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যেকোনো তথ্যের জন্য সর্বদা সরকারি ওয়েবসাইট যাচাই করা উচিত। কোনো অবস্থাতেই অপরিচিত লিঙ্কে ক্লিক করা কিংবা ওটিপি, পিন ও পাসওয়ার্ড অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না। প্রতারণার সম্মুখীন হলে দ্রুত স্থানীয় থানা বা সাইবার ক্রাইম থানার দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *