নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ঢুকছে বর্ষা, স্বস্তির খবরের মাঝেই উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা

তীব্র গরম আর প্যাচপ্যাচে অস্বস্তিকর আবহাওয়া থেকে অবশেষে মিলতে চলেছে মুক্তি। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবার নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমন ঘটছে। সাধারণত প্রতি বছর ১ জুন কেরলে বর্ষা প্রবেশ করলেও, এবার আগামী ২৬ মে-র মধ্যেই দেশের মূল ভূখণ্ডে বর্ষা ঢুকে পড়তে পারে। আজ শনিবার থেকেই আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বর্ষা প্রবেশের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে বর্ষা কবে নাগাদ এসে পৌঁছবে, সেই বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ জানায়নি আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

সক্রিয় একাধিক আবহাওয়াগত পরিস্থিতি

মৌসম ভবনের মতে, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ ক্ষেত্র তৈরি হওয়ার কারণে মৌসুমি বায়ু দ্রুত সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এর পাশাপাশি পূর্ব মধ্যপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ু উপকূলে দুটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। একই সঙ্গে পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ থেকে উত্তর বাংলাদেশ পর্যন্ত একটি দীর্ঘ নিম্নচাপ অক্ষরেখাও সক্রিয় রয়েছে। এই সমস্ত আবহাওয়াগত পরিবর্তনের জেরেই মূলত নির্ধারিত সময়ের আগে বর্ষার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে উত্তরবঙ্গে।

উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি

এই গাঙ্গেয় ও উপ-হিমালয় অঞ্চলের আবহাওয়াগত পরিস্থিতির কারণে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে শনিবার থেকেই ঝড়বৃষ্টির দাপট বাড়বে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। রবিবার পরিস্থিতি আরও কিছুটা জটিল হতে পারে এবং আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সোমবার পর্যন্ত বজায় থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গে এখনই ভারী বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও গরম ও ভ্যাপসা অস্বস্তি বজায় থাকবে। তবে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলি যেমন—বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং পূর্ব মেদিনীপুরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। কলকাতায় বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি আরও কয়েকদিন জারি থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *