মহাজাগতিক ওলটপালট, কেতুর কোপে আগামী ৩২ দিন চরম দুর্ভোগে পড়তে পারেন ৩ রাশির জাতকরা!
বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে অত্যন্ত রহস্যময় এবং মোক্ষের কারক গ্রহ হিসেবে পরিচিত কেতু তার অবস্থান পরিবর্তন করতে চলেছে। আগামী ২৯ মে কেতু মঘা নক্ষত্রের তৃতীয় দশায় প্রবেশ করবে, যেখানে এটি ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অবস্থান করবে। এই বিশেষ নক্ষত্র দশার অধিপতি হলেন বুদ্ধির কারক গ্রহ বুধ। ফলে কেতুর এই গোচর মানুষের বুদ্ধি, যুক্তি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং ব্যবসায়িক দূরদর্শিতাকে সরাসরি প্রভাবিত করবে। জ্যোতিষীদের মতে, এই মহাজাগতিক পরিবর্তনের কারণে আগামী ৩২ দিন মূলত ৩টি রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবনে চরম সংকটের মেঘ ঘনিয়ে আসতে পারে।
তিন রাশির ওপর অশুভ প্রভাব ও দুর্ভোগের কারণ
মঘা নক্ষত্রে কেতুর এই গোচরের ফলে মিথুন, কন্যা ও মীন রাশির জাতকদের কর্মজীবন, আর্থিক পরিস্থিতি ও মানসিক শান্তিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মিথুন রাশির জাতকদের ক্ষেত্রে বুধ স্বয়ং রাশির অধিপতি হওয়ায় এই সময়ে তাঁদের সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। কর্মক্ষেত্রে সহকর্মী ও কর্তৃপক্ষের সাথে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিতে পারে। লটারি বা শর্টকাটের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করলে বড় ধরনের আর্থিক দেউলিয়া হওয়ার যোগ রয়েছে।
কন্যা রাশির জাতকরা এই সময়ে লক্ষ্যচ্যুত ও বিভ্রান্ত হতে পারেন। কর্মক্ষেত্রে কঠোর পরিশ্রমের কৃতিত্ব অন্য কেউ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করায় মানসিক হতাশা বাড়বে। গোপন শত্রুর সক্রিয়তা এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অবহেলায় বড় চিকিৎসাজনিত খরচের সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, মীন রাশির জাতকদের জন্য এই গোচর পারিবারিক অশান্তি ও আর্থিক ধস নিয়ে আসতে পারে। অপ্রয়োজনীয় ও আকস্মিক খরচ মাসিক বাজেট তছনছ করে দেবে এবং দাম্পত্য জীবনে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে।
পারিবারিক বিবাদ ও মানসিক অবসাদের আশঙ্কা
জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী, মঘা নক্ষত্রের অধিষ্ঠাতা হলেন পূর্বপুরুষ বা ‘পিতৃগণ’। এই নক্ষত্রে কেতুর উপস্থিতির কারণে পুরনো কোনো পারিবারিক সম্পত্তি বা আইনি মামলা-মোকদ্দমা পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। বুধের প্রভাবে কেতু মানুষকে অতিরিক্ত চিন্তা বা ‘ওভারথিংকিং’ করতে বাধ্য করবে, যা শেষ পর্যন্ত তীব্র মানসিক অবসাদের জন্ম দিতে পারে।
দুর্যোগ কাটাতে জ্যোতিষীদের পরামর্শ
এই অশুভ প্রভাব ও দুর্ভোগ থেকে বাঁচতে জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞরা ৩টি সহজ প্রতিকারের কথা জানিয়েছেন। বুধ ও কেতুর অশুভ দশা প্রশমিত করতে নিয়মিত “ওম গণ গণপতয়ে নমঃ” মন্ত্র জপ করে ভগবান গণেশের আরাধনা করা জরুরি। এছাড়া, রাহু-কেতুর দোষ খণ্ডনের জন্য প্রতিদিন সকালে পাখিদের সাত প্রকারের শস্য বা সপ্তধান্য খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু মঘা নক্ষত্রের দেবতা পিতৃগণ, তাই এই সময়ে পূর্বপুরুষদের নামে গরীব ও দুঃস্থদের অন্ন বা বস্ত্র দান করলে অশুভ প্রভাব থেকে বিশেষ উপশম পাওয়া যাবে।