৫০ বছরের পুরনো বিপজ্জনক বাড়ি ভাঙার নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট
কলকাতা শহরের বহুতল আবাসনগুলির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিয়ে যখন রাজ্যজুড়ে কড়াকড়ি চলছে, ঠিক তখনই ডায়মন্ড হারবার রোডের একটি ৫০ বছরের পুরনো বহুতল ভাঙার নির্দেশের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাই কোর্ট। দমকল দপ্তরের দেওয়া ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাড়ি খালি ও ভেঙে ফেলার নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে বাসিন্দারা আদালতের দ্বারস্থ হলে বিচারপতি ভট্টাচার্যের বিশেষ বেঞ্চ আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশের নির্দেশ দেন।
দমকলের কড়া নির্দেশ ও বাসিন্দাদের আইনি লড়াই
ডায়মন্ড হারবার রোডের ওপর অবস্থিত ওই পুরনো বহুতলটিতে কোনো অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বা ফায়ার সেফটি নেই বলে অভিযোগ ওঠে। এর ভিত্তিতেই দমকল বিভাগের পক্ষ থেকে আবাসনটিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করে আলিপুর থানাকে একটি নির্দেশিকা পাঠানো হয়। নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়, কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় দ্রুত আবাসনটি ফাঁকা করতে হবে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা ভেঙে ফেলতে হবে। এই চরম নির্দেশিকার পরই জরুরি ভিত্তিতে শনিবার দুপুরে হাই কোর্টের বিশেষ বেঞ্চের দ্বারস্থ হন বাসিন্দারা। শুনানির সময় বাসিন্দাদের আইনজীবী আদালতে জানান, মাত্র একদিনের নোটিশে আবাসন খালি করার এই নির্দেশ অবাস্তব। পরিস্থিতি বিবেচনা করে আদালত আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত প্রশাসনের সমস্ত পদক্ষেপে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
আইনি জটিলতা ও সম্ভাব্য প্রভাব
শহরের বুকে সাম্প্রতিক তিলজলা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই অবৈধ ও বিপজ্জনক নির্মাণের বিরুদ্ধে রাজ্য প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে বিদ্যুৎ ও জলের লাইন কেটে দেওয়া এবং বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার মতো কড়া দাওয়াই শুরু হয়েছে। তবে দমকল বা প্রশাসনের এই অতি-সক্রিয়তা এখন আদালতের আইনি গ্যাঁড়াকলে আটকে যাচ্ছে। তিলজলার পর এবার আলিপুরের এই ঘটনা প্রমাণ করছে যে, উপযুক্ত সময় না দিয়ে হুট করে বাসস্থান ভাঙার নির্দেশ দিলে নাগরিকরা আদালতের শরণাপন্ন হচ্ছেন। এর ফলে একদিকে যেমন বিপজ্জনক বহুতল নিয়ে জননিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে আইনি স্থগিতাদেশের কারণে প্রশাসনের উচ্ছেদ ও সংস্কার অভিযানও দীর্ঘসূত্রিতার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।