কান চলচ্চিত্র উৎসবে বাঙালির জয়জয়কার, শিক্ষকের কটূক্তির যোগ্য জবাব দিলেন লাফটারসেন
বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চ ৭৯ তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের রেড কার্পেটে প্রথমবার পা রাখলেন বাংলার অত্যন্ত জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর নিরঞ্জন মন্ডল, যিনি সমাজমাধ্যমে ‘লাফটারসেন’ নামেই সমধিক পরিচিত। তাবড় তারকাদের ভিড়ে বিশ্বমঞ্চে এই বাঙালি ইনফ্লুয়েন্সরের উপস্থিতি তাঁর কেরিয়ারে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক সৃষ্টি করেছে। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে যোগ দিয়ে নিজের জীবনের এক চরম সত্য ও লড়াইয়ের গল্প অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।
কটূক্তির জবাব ও সাফল্যের সিঁড়ি
নিরঞ্জনের এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক তীব্র লড়াই এবং অতীতের কিছু তিক্ত স্মৃতি। ছাত্রজীবনে গণিতের একটি সাধারণ সূত্র ‘এ স্কোয়ার প্লাস বি স্কোয়ার’ ভুলে যাওয়ার কারণে শিক্ষকের কাছ থেকে তাঁকে শুনতে হয়েছিল, তিনি জীবনে খুব বেশি দূর এগোতে পারবেন না। আজ কানের লাল গালিচায় দাঁড়িয়ে সেই অপমানের এক অভিনব ও চমৎকার জবাব দিলেন তিনি। ফ্রান্সের প্রচণ্ড ঠান্ডায় পানীয়ে চুমুক দিয়ে মজা করে নিরঞ্জন বলেন, ফ্রান্স দিয়ে যাত্রা শুরু করার পরেও তিনি কাঁদছেন, কারণ এখনও তিনি সেই গণিতের সূত্রটি মনে করতে পারছেন না। তাঁর এই রসবোধ ও আত্মবিশ্বাস প্রমাণ করেছে যে প্রথাগত শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়েও প্রতিভা ও পরিশ্রমের জোরে বিশ্বজয় করা সম্ভব।
কেরিয়ারের উত্থান ও সম্ভাব্য প্রভাব
কানের রেড কার্পেটে ১৪ থেকে ১৭ মে পর্যন্ত উপস্থিত থাকাকালীন নিরঞ্জনের ফ্যাশন সচেতনতা ও পোশাক নির্বাচন ভক্তমহলে দারুণ প্রশংসিত হয়েছে। কখনো দুধ সাদা পোশাকে আবার কখনো রঙিন সাজে নিজেকে মেলে ধরেছেন তিনি। মজার ভিডিওর পাশাপাশি স্পর্শকাতর বিষয়ে সংবেদনশীল কনটেন্ট তৈরি করে জনপ্রিয়তা পাওয়া নিরঞ্জন গত বছর সন্দীপ্তা সেনের সঙ্গে ‘বীরাঙ্গনা’ ওয়েব সিরিজে অভিনয় করে নিজের অভিনয় দক্ষতারও প্রমাণ দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বমঞ্চে নিরঞ্জনের এই প্রতিনিধিত্ব বাংলার আঞ্চলিক কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল। এর ফলে আন্তর্জাতিক স্তরে বাঙালি ডিজিটাল তারকাদের গ্রহণযোগ্যতা যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনই কান ফেরত নিরঞ্জনের ব্যক্তিগত স্টারডাম এবং কাজের পরিধিও আগামী দিনে বহুগুণ বেড়ে যাবে।