মঞ্চে সাংসদ পার্থর নাটক দেখলেন শমীক, শিল্পপ্রেমে একাকার দুই মেরুর রাজনীতি!
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/10/samik-bhattacharya-2026-05-10-14-40-05.jpg)
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে শাসক ও বিরোধী শিবিরের তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত যখন নিত্যদিনের ছবি, ঠিক তখনই কলকাতার সংস্কৃতি মহলে দেখা গেল এক নজিরবিহীন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ দৃশ্য। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভেদাভেদ ভুলে শনিবার অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসে নাটকের টানে মুখোমুখি হলেন দুই বিরোধী শিবিরের শীর্ষনেতা। দর্শকাসনে বসে তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিকের অভিনয় মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য।
খ্যাতনামা নাট্যদল ‘পূর্ব-পশ্চিম’ প্রযোজিত এবং উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘আ-শক্তি’ নাটকটিকে কেন্দ্র করে এই অভূতপূর্ব মেলবন্ধন তৈরি হয়। নাটকটি মূলত শমীক ভট্টাচার্যের প্রিয় কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সৃষ্টি ও জীবনদর্শন অবলম্বনে নির্মিত। মঞ্চে কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেবশংকর হালদার থাকলেও, ‘কলকাতা’ শহরের রূপক চরিত্রে অভিনয় করেছেন তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক।
রাজনীতি ভুলে গ্রিন রুমে শুভেচ্ছা
রাজনৈতিক ময়দানে একে অপরের কট্টর বিরোধী হলেও, শিল্পের আঙিনায় এদিন কোনো দেওয়াল ছিল না। নাটক শেষে সরাসরি গ্রিন রুমে চলে যান শমীক ভট্টাচার্য। সেখানে অভিনেতা পার্থ ভৌমিকসহ অন্যান্য কুশলীদের অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাঁদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান। অ্যাকাডেমি চত্বরে দাঁড়িয়ে শমীক স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, পার্থ ভৌমিক যখন রাজনীতিতে আসেননি, তখন থেকেই তিনি তাঁর অভিনয় দেখছেন। ফলে নেতা পার্থ তাঁর কাছে নতুন হলেও, অভিনেতা পার্থ অত্যন্ত পরিচিত।
শিল্পের স্বাধীনতা ও নতুন নাট্যকেন্দ্রের ইঙ্গিত
এই সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের আবহেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে একটি বড় ইঙ্গিতপূর্ণ ঘোষণা করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তিনি জানান, শিল্প এবং শিল্পসত্তাকে খুন করার অধিকার কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা সরকারের নেই, নাটক সবসময় নাটকের মতোই স্বাধীনভাবে চলবে। এর পাশাপাশি রাজ্যে শিল্পীদের সুবিধার্থে পুণের ফিল্ম ইনস্টিটিউটের আদলে কলকাতাতেও একটি জাতীয় স্তরের নাট্যচর্চা কেন্দ্র গড়ে তোলার ইঙ্গিত দেন তিনি। আগামী এক মাসের মধ্যেই এই বিষয়ে সরকারি ঘোষণা আসতে পারে বলে দাবি করেছেন শমীক ভট্টাচার্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের চরম রাজনৈতিক মেরুকরণের আবহে এই ঘটনা এক ইতিবাচক বার্তা বহন করে। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক সৌজন্য ও সংস্কৃতির এই উদযাপন বাংলার সুস্থ গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করবে।