মহিলা পুলিশদের জন্য বড় উপহার শুভেন্দুর, রদবদল পুলিশ প্রশাসনেও!

মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর ও প্রশাসনিক রদবদলের সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ডায়মন্ড হারবারে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে আয়োজিত একটি হাইপ্রোফাইল বৈঠকে পুলিশ মহলের জন্য একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করেন তিনি। বিশেষ করে মহিলা পুলিশ কর্মীদের দূরবর্তী জেলায় বদলি রুখতে এবং কর্মক্ষেত্রে তাঁদের মানসিক চাপ কমাতে রাজ্য সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্ত পুলিশ মহলে ব্যাপক খুশির হাওয়া নিয়ে এসেছে।

মহিলা পুলিশদের ঘরের মাঠে পোস্টিং

প্রশাসনিক বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মহিলা পুলিশ কনস্টেবল এবং মহিলা পুলিশ আধিকারিকদের যাতে তাঁদের বাড়ির আশেপাশের জেলাতেই পোস্টিং দেওয়া হয়, সেই বিষয়ে রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল বা ডিজিপি-কে ইতিবাচক পদক্ষেপ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দূরবর্তী জেলায় পোস্টিংয়ের কারণে মহিলা কর্মীদের যে পারিবারিক ও মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, তা দূর করাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য। এর পাশাপাশি, যে সমস্ত পুলিশ কনস্টেবলরা ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে চাকুরিরত, তাঁদের নিজস্ব জেলায় বদলি করা যায় কি না, তা নিয়ে ইতিবাচক চিন্তাভাবনার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

ভেঙে দেওয়া হলো পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড

প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে গঠিত পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ডটি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, ভালো উদ্দেশ্যে গঠিত হলেও পরবর্তীকালে এই পর্ষদটি রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছিল এবং এর ফলে মুষ্টিমেয় কিছু পুলিশ আধিকারিকই কেবল সুবিধা পাচ্ছিলেন। পক্ষপাতিত্ব রুখতে এবং পুলিশের নিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনতেই এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

হিংসা ও তোলাবাজি রুখতে কড়া দাওয়াই

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি বিগত বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসা নিয়ে কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএস-এর আইন অনুযায়ী এবার থেকে পুলিশ প্রশাসন পরিচালিত হবে। বিগত পাঁচ বছরে রাজনৈতিক হিংসার শিকার হওয়া ব্যক্তিরা নতুন করে তথ্যপ্রমাণ সহ পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করতে পারবেন। বিগত বাম ও তৃণমূল আমলের উদাহরণ টেনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অতীতে পুলিশকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার যে প্রবণতা ছিল, তা আর বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে রাজ্যের সিন্ডিকেট রাজ ও তোলাবাজি বন্ধে পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *